শাহজাদপুর সংবাদ

শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন ভাবনা, কারিকুলামে আসছে নতুন সংযোজন

৬ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৮:৫৭ PM

শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন ভাবনা, কারিকুলামে আসছে নতুন সংযোজন

২০২৭ সালের কারিকুলামে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধ যুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একইসঙ্গে নারীশিক্ষার পথিকৃৎ নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানীর জীবনী ভবিষ্যতে কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ‘গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর চূড়ান্ত পর্বের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছিল, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে চারটি নতুন বই যুক্ত করা হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বই যুক্ত হবে।

এদিকে মঙ্গলবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির উদ্যোগে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের শারীরিক শিক্ষা বিভাগ ও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লার ব্যবস্থাপনায় এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিযোগিতার মূল প্রতিপাদ্য ‘ক্রীড়া নৈপুণ্যে গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

গত ২৬ আগস্ট দেশব্যাপী গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হয়। দেশের স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির অনূর্ধ্ব-১৭ বছরের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিচ্ছে। প্রতিযোগিতায় হ্যান্ডবল, কাবাডি, দাবা ও সাঁতার—এই চারটি খেলা রয়েছে।

প্রায় ২৮ হাজার প্রতিষ্ঠান এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থী, জেলা পর্যায়ে ৪৭ হাজার ৮৪০ জন, উপ-অঞ্চল পর্যায়ে ৫ হাজার ৮৮৮ জন এবং অঞ্চল পর্যায়ে ৮২৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। জাতীয় পর্যায়ে অংশ নিচ্ছে ৩৬৮ জন শিক্ষার্থী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, লেখাপড়ার সঙ্গে খেলাধুলা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত থাকতে হবে। বিজয়ী ও পরাজিত—উভয়কেই প্রতিযোগিতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। পরাজয় মেনে নিয়ে কীভাবে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো যায়, সেই শিক্ষাও নিতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি খেলাধুলার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। ২০২৭ সালের কারিকুলামে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধের মতো বিষয়গুলো সংযোজন করা হচ্ছে। আনন্দময় শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা আগামী দিনে এমন একটি প্রজন্ম গড়তে চাই, যে প্রজন্ম আগামীর বাংলাদেশ তৈরি করবে। সেই প্রজন্ম বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে নেতৃত্ব দেবে।

তিনি বলেন, এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত স্মরণীয় একটি দিন। এটি শিক্ষা ও খেলাধুলার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, নিজেদের ভবিষ্যৎ সঠিকভাবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট থাকতে হবে। এ জন্য মনোযোগের সঙ্গে লেখাপড়া ও খেলাধুলায় সম্পৃক্ত হতে হবে। দেশকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহ্দি আমিন বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

সম্পর্কিত সংবাদ