শাহজাদপুর সংবাদ

রিপাবলিকানরা কি কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে, কেন ট্রাম্পের এত ভয়

২২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১১:০৬ AM

রিপাবলিকানরা কি কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে, কেন ট্রাম্পের এত ভয়

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান ও বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের লড়াই।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসনে ব্যবধান কমে এলেও জাতীয় পর্যায়ে ডেমোক্র্যাটদের সুবিধা কমে আসছে—সর্বশেষ তথ্য এমন কথা বলছে না। মোটা তহবিল থাকায় নেতিবাচক প্রচারণায় রিপাবলিকানরা জোর বাড়াচ্ছে। নিজ দলের সমর্থকদের চাঙা করতে নির্বাচনী প্রচারণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে। তবে এর ফল সব ক্ষেত্রে যে খুব ভালো হচ্ছে, তা বলা যাবে না। জনমত জরিপে তাঁর কাজের প্রতি সমর্থন মাত্র ৩১ শতাংশ—যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যেকোনো প্রেসিডেন্টের জন্য সর্বনিম্ন।

অধিকাংশ পূর্বাভাসে ডেমোক্র্যাটরা এখনো এগিয়ে। অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য হিসেবে পরিচিত নির্বাচনী পূর্বাভাস বিশেষজ্ঞ নেট সিলভারের প্রস্তুত মডেল অনুসারে, ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা ৭৫ শতাংশ। এই মডেলে তাদের প্রতিনিধি পরিষদে ২৪টি ও সিনেটে ৫টি আসন বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এগুলো সম্ভাবনার হিসাব, নিশ্চিত ফল নয়। সিলভার বুলেটিনের ২০ অক্টোবরের আপডেটে সম্ভাব্য ভোটারদের জন্য সমন্বয় করা জাতীয় কংগ্রেসনাল ব্যালটে ডেমোক্র্যাটদের ব্যবধান বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ পয়েন্ট। এই নির্বাচনী পর্বে তাদের সমন্বিত হিসাবে এটিই ডেমোক্র্যাটদের সর্বোচ্চ ব্যবধান।

নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় রিপাবলিকানদের কোথাও কোথাও পিছু হটার প্রমাণও মিলেছে। নর্থ ক্যারোলাইনা ও জর্জিয়ার সিনেট নির্বাচনে নিজেদের ভরাডুবি নিশ্চিত জেনে রিপাবলিকানরা বিজ্ঞাপনের বরাদ্দ কমিয়েছে বা স্থগিত করেছে। এই দুই অঙ্গরাজ্যেই ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প ভালো ব্যবধানে জিতেছিলেন। নর্থ ক্যারোলাইনায় সিনেট লিডারশিপ ফান্ড বিজ্ঞাপন স্থগিত করে কানসাসের সিনেট আসনে অর্থ সরিয়েছে।

এখানে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শাল পুনর্নির্বাচনের জন্য লড়ছেন। তিনি পেশায় চিকিৎসক, ২৫ বছরের পেশাগত জীবনে চিকিৎসা ফি দিতে না পারার অপরাধে কয়েক শ নিম্ন আয়ের রোগীকে জেলে পাঠিয়েছেন, এ কথা নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে প্রকাশ হওয়ার পরই তিনি বিপদে আছেন। প্রবল ট্রাম্প-ভক্ত হিসেবে পরিচিত কানসাসে নিজ দলের এই সিনেট প্রার্থীকে বাঁচিয়ে রাখতে ব্যক্তিগতভাবে লম্ফঝম্প করছেন ট্রাম্প, তবে তাতেও শেষরক্ষা হবে বলে মনে হয় না।

প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকটি আসনেও রিপাবলিকান দল ও তাদের সমর্থকেরা ব্যয়ের অগ্রাধিকার বদলেছেন। পলিটিকো জানিয়েছে, একাধিক রিপাবলিকান নেতা স্বীকার করেছেন, এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ধরে রাখা অসম্ভব। এমনকি চলতি স্পিকার মাইক জনসন পর্যন্ত ইঙ্গিত করেছেন, এই নির্বাচনে ক্ষমতার হাতবদল হলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে ব্যবসায় মন দেবেন।

তবে রিপাবলিকানদের এখনই খরচের খাতায় ফেলে দেওয়া ঠিক হবে না। ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় তাদের বড় সুবিধা হলো বিপুল নির্বাচনী তহবিল। দলীয় তহবিলের বাইরে প্রার্থীদের সমর্থনে গঠিত সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা সুপার প্যাকগুলো বিপুল অর্থ ঢালছে। জুলাই থেকে ইলন মাস্ক একাই রিপাবলিকানপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে ২৭৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি দিয়েছেন বলে এপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ট্রাম্প নিজেও ব্যক্তিগত নির্বাচনী তহবিল থেকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার খরচের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

প্রতিনিধি পরিষদের ব্যাপারে হাল ছেড়ে দিলেও এখনো সিনেট হাতছাড়া করতে রাজি নয় রিপাবলিকান দল। এ মুহূর্তে তাদের সব নজর মিশিগান, টেক্সাস ও মেইনের সিনেট প্রার্থীদের ওপর। মিশিগানে প্রগতিশীল হিসেবে পরিচিত কট্টর ইসরায়েলবিরোধী প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদকে হারাতে তাঁরা ৩০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করতে পারে।

অন্যদিকে টেক্সাসে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জেমস টালারিকোর রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী কেন প্যাক্সটনকে জিতিয়ে আনতে ৫০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে বলে ভাবা হচ্ছে। এর মধ্যে ইলন মাস্ক একাই দেড় শ মিলিয়ন ডলার দিয়েছেন। একই অবস্থা মেইনে, যেখানে মধ্যপন্থী হিসেবে পরিচিত সিনেটর সুসান কলিন্সকে জিতিয়ে আনতে রিপাবলিকান দাতারা হাতখুলে ব্যয় করা শুরু করেছেন।

এই অর্থের বড় অংশই ব্যয় হচ্ছে প্রতিন্দ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক বিজ্ঞাপনে। এল-সাইয়েদকে একজন টেররিস্ট-সমর্থক এবং টালারিকোকে গুপ্ত-সমকামী বা লিঙ্গান্তরিত বলে জোর প্রচারণা চলছে। এর ফলে এই দুই রিপাবলিকান প্রার্থী অল্পবিস্তর ব্যবধান কমাতে পেরেছেন বলে জনমত জরিপে ইঙ্গিত মিলেছে। উভয় ক্ষেত্রেই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ হানতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি এল-সাইয়েদকে ‘একজন সন্ত্রাসী যে আমেরিকাকে ঘৃণা করে’ এবং টালারিকোকে ‘টালাফ্রিকো’ নামে অভিহিত করেছেন।

মধ্যবর্তী নির্বাচন বরাবরই ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের শাসনকালের ওপর একধরনের গণভোট বা রেফারেন্ডাম। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয়, বেহাল অর্থনীতি ও ইরান যুদ্ধ ভোটারদের বড় উদ্বেগের বিষয়। ডেমোক্র্যাটরা এসব প্রশ্নকে যুক্ত করে জোর দিচ্ছে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর সামর্থ্য বা ‘অ্যাফোর্ডাবিলিটি’র ওপর। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের দুর্নীতির প্রশ্নটি। ফক্স নিউজের এক সাম্প্রতিক জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের ৮৮ শতাংশ সরকারি দুর্নীতি নিয়ে অত্যন্ত বা খুব উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন।

এই নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষ বা এমনকি একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালেও সেটি তাঁর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে—এ কথা খুব ভালো করেই জানেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিনিধি পরিষদ হাতছাড়া হলে নতুন তদন্ত ও অভিশংসনের উদ্যোগের মুখে পড়তে পারেন তিনি। তাই নিজ দলের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় উঠেপড়ে লেগেছেন। উদ্দেশ্য, নিজ সমর্থকদের চাঙা করা।

সমস্যা হচ্ছে, এ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের ৭১ শতাংশ মানুষ মনে করে দেশ ভুল পথে চলছে, আর এ জন্য দায়ী ট্রাম্প। তাঁর নির্বাচনী র‍্যালিতে এখন আর আগের মতো লোকসমাগম হয় না। কোনো কোনো রিপাবলিকান প্রার্থী নিজেদের রাজ্যে প্রচারণায় ট্রাম্প এলেও তাঁকে সযত্নে এড়িয়ে চলছেন। কেন প্যাক্সটন অভিযোগ করেছেন, তাঁর পক্ষে ট্রাম্পের প্রচারণায় ভালোর চেয়ে মন্দই হচ্ছে বেশি। অন্যদিকে মেইনের সুসান কলিন্স সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি চান না ট্রাম্প তাঁর রাজ্যে প্রচারণায় আসুন।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ