শাহজাদপুর সংবাদ

ব্রোকারেজ হাউস–মার্চেন্ট ব্যাংকে অর্থ পাচার প্রতিরোধ ইউনিট গঠনের নির্দেশ

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১০:৩০ AM

ব্রোকারেজ হাউস–মার্চেন্ট ব্যাংকে অর্থ পাচার প্রতিরোধ ইউনিট গঠনের নির্দেশ

পুঁজিবাজারে অবৈধ অর্থের অনুপ্রবেশ, মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রতিরোধ ইউনিট গঠনের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। দেশের পুঁজিবাজারকে নিরাপদ রাখা এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতে ট্রেড রাইট এন্টাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট (ট্রেক) হোল্ডার, স্টক ডিলার ও ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংক, পোর্টফোলিও ম্যানেজার, সিকিউরিটিজ কাস্টডিয়ান এবং সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বেনামে বা ভুয়া নামে কোনো অবস্থাতেই পুঁজিবাজারে হিসাব খোলা বা সেবা দেওয়া যাবে না। গ্রাহকের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিতে ‘যথাযথ গ্রাহক পরিচিতি’ এবং ‘কাস্টমার ডিউ ডিলিজেন্স’ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট বা জন্মসনদের মতো সরকারি ডেটাবেজ ব্যবহার করতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিএফআইইউর ই-কেওয়াইসি নীতিমালা মানতে হবে।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রকৃত সুবিধাভোগী শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বা কোম্পানির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণকারী শেয়ারহোল্ডার বা ২০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ারধারী ব্যক্তি কে, তা নিশ্চিত করতে হবে। যদি কোনো গ্রাহকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি না পাওয়া যায়, তবে তাঁকে সেবা দেওয়া বন্ধ এবং প্রয়োজনে বিএফআইইউতে সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট দাখিল করতে হবে।

রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি, দেশীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হিসাব খোলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ধরনের গ্রাহকের ক্ষেত্রে তহবিলের উৎস অনুসন্ধান এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে সম্পর্ক স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চাকরি থেকে অবসর বা অব্যাহতির পরও অন্তত এক বছর পর্যন্ত তাঁরা এই ক্যাটাগরিতে বিবেচিত হবেন।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত ভিত্তিতে গ্রাহকদের লেনদেন পরিবীক্ষণ করতে হবে। কোনো লেনদেনে আর্থিক বা দৃশ্যমান বৈধ উদ্দেশ্য না থাকলে তা অবিলম্বে চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে বিএফআইইউতে রিপোর্ট করতে হবে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজোল্যুশন এবং বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ বা তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ব্যক্তি ও সত্তার ওপর কড়া নজরদারি রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এমন কোনো ব্যক্তির হিসাব পাওয়া গেলে অবিলম্বে লেনদেন বা পেমেন্ট স্থগিত করে বিএফআইইউকে জানাতে হবে। এ ছাড়া গ্রাহকের হিসাবসংক্রান্ত যাবতীয় নথি ও লেনদেনের তথ্য হিসাব বন্ধ হওয়ার তারিখ থেকে অন্তত পাঁচ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে নিজস্ব কৌশল ও নীতি প্রণয়ন করতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে ‘কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট’ (সিসিইউ) গঠন করতে হবে এবং তাঁকে চিফ অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার হিসেবে মনোনীত করতে হবে। শাখা পর্যায়ে শাখা পরিপালন কর্মকর্তা নিয়োগের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পাশাপাশি প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার প্রধান কার্যালয় ও শাখা কর্মকর্তাদের নিয়ে ঝুঁকি পর্যালোচনা সভা করতে বলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ