ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই যুবকের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন আটকে গেল, কারণ জানেন না কেউ
৫ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১২:৩৪ PM

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সাতঘরহাটি গ্রামের রুবেল মিয়ার (৩১) বাবা পেশায় কৃষক, মা হৃদ্রোগে আক্রান্ত। কৃষিকাজ করে বাবা চার ছেলেমেয়েকে বড় করেছেন। রুবেল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন। সব ধাপ পেরিয়ে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্তও হন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিয়োগপত্র পাননি তিনি।
রুবেলের মতো নবীনগর পৌর এলাকার কলেজপাড়ার মো. যোবায়েরুল ইসলামও (৩১) প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র পাননি। কাগজপত্রে কোনো জটিলতা বা মামলা না থাকার পরও যাচাইয়ে ত্রুটির কথা বলে তাঁদের নিয়োগ আটকে দেওয়া হয়েছে। কী ত্রুটি পাওয়া গেছে, তা জানানো হয়নি।
দুজনই এখন নিয়োগপত্রের আশায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছেন। তাঁদের দাবি, পুলিশ ভেরিফিকেশন ও গোয়েন্দা যাচাইয়ে তাঁদের বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তারপরও কেন তাঁরা নিয়োগপত্র পেলেন না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর পাচ্ছেন না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, জেলায় প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে ২৫৫ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। ২৪০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। দুজন বাদ পড়েছেন।
যাচাইয়ে ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকায় দুজনকে বাদ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে শামসুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের নিয়োগপত্র পাওয়ার বিষয়ে চেষ্টা চলছে। তবে নিয়োগের চূড়ান্ত নির্দেশনা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে আসে।
যাচাইয়ে কী ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেছে—জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি গোপনীয়। তাই তা বলা যাবে না।
গতকাল রোববার নিয়োগপত্রের বিষয়ে খোঁজ নিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে গিয়েছিলেন রুবেল মিয়া। পরে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশ পাওয়ার পর নিয়োগপত্রের অপেক্ষায় ছিলেন। চাকরি পেলে পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারবেন—এমন আশায় ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিয়োগপত্র না পাওয়ায় কেন এমন হলো, তা বুঝতে পারছেন না।
রুবেলের দাবি, ‘চাকরিটা পেলে বাবাসহ সংসারের উপকার হতো। পরিবারের জন্য কিছু করতে পারতাম।’
পরিবারটি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন জানিয়ে রুবেল বলেন, তিনি তাবলিগের সঙ্গে যুক্ত। পুলিশ ভেরিফিকেশন ও গোয়েন্দা যাচাইয়ে তাঁর বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানতে পেরেছেন। এরপরও নিয়োগপত্র না পাওয়ার কারণ জানতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছেন।
যোবায়েরুল ইসলাম বলেন, দুই ভাই শিক্ষক হওয়ায় তাঁদের দেখে তাঁরও শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন তৈরি হয়। সেই স্বপ্ন নিয়ে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করেন। চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ফল প্রকাশের পর তিনি সুপারিশপ্রাপ্ত হন। প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ায় তিনি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অফিস সহায়ক পদে নিয়োগের জন্য কাগজপত্র জমা দেননি। পোস্টম্যান পদে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষাতেও অংশ নেননি। কারণ, প্রাথমিকের শিক্ষক পদেই তাঁর চাকরি হবে বলে ধরে নিয়েছিলেন।
এখন যোবায়েরুলের বয়স ৩১ বছর ৬ মাস। সরকারি চাকরির বয়সসীমার শেষ প্রান্তে এসে শিক্ষক হওয়ার জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তিনি হতাশ।যোবায়েরুল প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। কাগজপত্র বা ঠিকানাতেও কোনো সমস্যা নেই। তারপরও কেন তাঁকে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হলো, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট উত্তর পাচ্ছেন না।
রুবেল বলেন, এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরতে ঘুরতে মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা তাঁকে গভীরভাবে হতাশ করেছে।
দুই প্রার্থীরই দাবি, তাঁদের নিয়োগে কী ত্রুটি পাওয়া গেছে, তা স্পষ্ট করে জানানো হোক। একই সঙ্গে তাঁরা যদি নিয়োগের সব শর্ত পূরণ করে থাকেন, তাহলে দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।
সূত্র: প্রথম আলো
সম্পর্কিত সংবাদ
মাদকের তথ্য দেওয়ায় গ্রাম পুলিশকে মারধরের অভিযোগ, পরে আটক ৩
৫ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১২:০১ PM · প্রথম আলো
