বাংলাদেশের শিক্ষক থেকে যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী, আমার অভিজ্ঞতা
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ এ ২:০২ PM

বাংলাদেশে প্রায় দেড় দশকের বেশি সময় শিক্ষকতা, প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার্থীদের সহায়তার সঙ্গে যুক্ত থাকার পর এবার আমি নিজেই আবার শিক্ষার্থীর আসনে। পার্থক্য শুধু এটুকু নয় যে এবার শ্রেণিকক্ষটি বাংলাদেশের বাইরে। বরং একজন শিক্ষক হিসেবে এত বছর যে শিক্ষাব্যবস্থার ভেতর দিয়ে কাজ করেছি, তার বাইরে এসে অন্য একটি শিক্ষাব্যবস্থাকে একজন শিক্ষার্থীর চোখ দিয়ে দেখার সুযোগ পেয়েছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর শেষে ২০১১ সালে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে যোগদানের পর থেকে বাংলাদেশের তিনটি সরকারি কলেজে (মাইকেল মধুসূদন কলেজ, যশোর; ব্রজলাল কলেজ, খুলনা ও খুলনা সরকারি কলেজ) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তর, জাতীয় কারিকুলামের উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পাশাপাশি খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরে শ্রেণি পাঠদানে যুক্ত ছিলাম। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের পাঁচটি শিক্ষা প্রজেক্টে শিক্ষক প্রশিক্ষণে মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে কাজ করেছি।
প্রশিক্ষক হিসেবে কাজের সুযোগ হয়েছে মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ন্যাশনাল একাডেমি ফর অটিজম ও নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅ্যাবিলিটিজে। শিক্ষার্থী হিসেবে বিদেশযাত্রার আগে সর্বশেষ কাজ করেছি জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ পদে।
২০২৬–এর জানুয়ারি শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওয়েস্ট অব স্কটল্যান্ডের (ইউডব্লিউএস) লন্ডন ক্যাম্পাসে মাস্টার অব এডুকেশন ইন এডুকেশনাল স্টাডিজ নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে আমার কাছে সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে নিজেকে নতুন করে শিক্ষার্থী হিসেবে আবিষ্কার করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের পাশাপাশি স্বনির্ভর অধ্যয়ন, প্রবন্ধ, প্রতিফলনমূলক দিনলিপি, পোর্টফোলিও, উপস্থাপনা, নীতিমালাবিষয়ক বিতর্ক, প্রকল্প প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন ধরনের মূল্যায়ন রয়েছে। এই অভিজ্ঞতা আমাকে শুধু নতুন কিছু শেখায়নি; বরং এতদিনের শিক্ষকতাকেও নতুন চোখে দেখতে শিখিয়েছে।
শিক্ষক থেকে শিক্ষার্থী—পরিবর্তনটা কোথায়
বাংলাদেশে শিক্ষকতা করার সময় আমার দায়িত্বের একটি বড় অংশ ছিল শিক্ষার্থীদের বিষয়বস্তু বোঝানো, প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়তা করা। কিন্তু যুক্তরাজ্যে এসে বুঝলাম, উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীর নিজের শেখার দায়িত্ব অনেক বেশি। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক একটি ধারণা, তত্ত্ব বা বিষয় ব্যাখ্যা করেন। এরপর শুরু হয় শিক্ষার্থীর নিজের অনুসন্ধান। এই তত্ত্বের পক্ষে কী যুক্তি আছে? এর সীমাবদ্ধতা কোথায়? অন্য গবেষকেরা কী বলেছেন? বাস্তবতার সঙ্গে এর সম্পর্ক কতটা? এ বিষয়ে আমার নিজের অবস্থান কী? অর্থাৎ শুধু ‘সঠিক উত্তর’ জানা যথেষ্ট নয়। উত্তরটি কীভাবে তৈরি হলো, এর পেছনে কী প্রমাণ রয়েছে এবং ভিন্নমতের সঙ্গে সেটির সম্পর্ক কী—এসবও গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষক হিসেবে বিষয়টি আমাকে বিশেষভাবে ভাবিয়েছে। এত দিন আমি শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণী চিন্তা ও প্রশ্ন করার গুরুত্ব বোঝাতাম। এবার নিজেকেই সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে হচ্ছে।
শ্রেণিকক্ষে নীরবতা নয়, প্রশ্নের শব্দ
বাংলাদেশের বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষককে জ্ঞানের প্রধান উৎস হিসেবে দেখা হয়। শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের বক্তব্য শোনে, নোট নেয় এবং পরীক্ষায় তা যথাসম্ভব সঠিকভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে। অবশ্যই দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখন শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষাদানের চর্চা বাড়ছে। তারপরও বড় শ্রেণি, সময়ের সীমাবদ্ধতা, পরীক্ষাকেন্দ্রিক মূল্যায়নসহ নানা বাস্তবতায় শিক্ষককেন্দ্রিক শিক্ষার প্রভাব অনেক জায়গায় রয়ে গেছে।
যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি ভাবিয়েছে, তা হলো প্রশ্ন করার সংস্কৃতি।
শিক্ষকের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে শিক্ষার্থী যুক্তি দিয়ে তা বলতে পারে। কোনো তত্ত্বের সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। কোনো গবেষণার গবেষণাপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করতে পারে। এমনকি শিক্ষক যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তার বিকল্প ব্যাখ্যাও উপস্থাপন করতে পারে। এখানে প্রশ্ন করা অনেক সময় শেখারই একটি অংশ। তখন নিজের শিক্ষকতার কথাই মনে হয়। আমরা কি শিক্ষার্থীদের শুধু উত্তর খুঁজতে শেখাই, নাকি ভালো প্রশ্ন করতেও শেখাই?
পাঠদান শেষ হলেই পড়াশোনা শেষ নয়
যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হলো স্বনির্ভর অধ্যয়ন। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক যে বিষয়টি আলোচনা করলেন, সেটিই শেষ কথা নয়। বরং সেটি পরবর্তী পড়াশোনার একটি সূচনা। বই, গবেষণামূলক প্রবন্ধ, গবেষণাপত্র, নীতিমালা ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। তারপর সেগুলো পড়ে নিজের উপলব্ধি তৈরি করতে হয়। একটি লিখিত কাজ তৈরি করতে গিয়ে কখনো একটি ছোট প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেও অনেক গবেষণামূলক লেখা পড়তে হয়। শুধু তথ্য সংগ্রহ করলেই হয় না; তথ্যের উৎস কতটা নির্ভরযোগ্য, গবেষকের বক্তব্য কী, যুক্তির শক্তি ও সীমাবদ্ধতা কোথায় এবং নিজের বক্তব্যের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী—সবকিছু বিবেচনা করতে হয়।
বাংলাদেশে শিক্ষক হিসেবে আমি শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি পড়তে বলেছি। যুক্তরাজ্যে এসে বুঝলাম, বেশি পড়ার পাশাপাশি ‘কীভাবে পড়তে হবে’, সেটিও শেখানো জরুরি।
লিখিত কাজ মানে শুধু লেখা নয়
দুই শিক্ষাব্যবস্থার পার্থক্য বোঝার ক্ষেত্রে মূল্যায়নপদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের লিখিত কাজ করতে গিয়ে বুঝেছি, একটি বিষয়ের ওপর তথ্য দেওয়া আর একটি সুসংগঠিত একাডেমিক যুক্তি তৈরি করা এক বিষয় নয়।
একটি ভালো লিখিত কাজে শুধু ‘কী ঘটেছে’ তা বললেই হয় না। কেন ঘটেছে, বিভিন্ন গবেষক বিষয়টিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, তাঁদের মধ্যে কোথায় মিল বা অমিল এবং নিজের বিশ্লেষণ কী—এসবও তুলে ধরতে হয়। এ ধরনের মূল্যায়ন শিক্ষার্থীকে নিজের চিন্তা গুছিয়ে নিতে বাধ্য করে। একজন শিক্ষক হিসেবে এই অভিজ্ঞতা আমাকে ভাবিয়েছে—আমরা যদি মূল্যায়নের বড় অংশে শিক্ষার্থীর তথ্য মনে রাখার ক্ষমতাকেই পরীক্ষা করি, তাহলে তার বিশ্লেষণী ও সৃজনশীল চিন্তার সুযোগ কতটা তৈরি করছি?
শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক: শ্রদ্ধা ও সংলাপ
বাংলাদেশে শিক্ষককে সাধারণত সম্মানের একটি বিশেষ অবস্থানে দেখা হয় (যদিও এ ধারা কমছে)। আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতায় এটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে এমন শিক্ষার পরিবেশও প্রয়োজন, যেখানে শিক্ষার্থী সম্মান বজায় রেখেই প্রশ্ন করতে পারে। যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের মধ্যে শিক্ষাবিষয়ক সংলাপের বিষয়টি আমাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে।
শিক্ষার্থী শিক্ষকের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারে। শিক্ষকও তার যুক্তি শুনতে পারেন। কারণ, দ্বিমতকে ব্যক্তিগত অসম্মান হিসেবে না দেখে শিক্ষাবিষয়ক আলোচনার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়। যেমন যুক্তরাজ্যে ঈদের দিনে কোনো ছুটি নেই; বরং ক্লাস করতে হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষককে প্রশ্ন করেছিলাম, তোমরা ইনক্লুসিভ এডুকেশনের কথা বলছ অথচ মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিকে গুরুত্ব দিচ্ছ না; কিন্তু খ্রিষ্টানদের ক্রিসমাস ডেতে তো ঠিকই ছুটি দিচ্ছ। এটা কীভাবে ইনক্লুসিভ হয়? তিনি প্রশ্নকে স্বাগত জানিয়ে হাসিমুখে যুক্তিপূর্ণ উত্তর দিলেন। এখান থেকে আমার একটি উপলব্ধি হয়েছে—শিক্ষকের কর্তৃত্ব হয়তো প্রশ্ন বন্ধ করার মধ্যে নয়; বরং এমন পরিবেশ তৈরির মধ্যে, যেখানে শিক্ষার্থী নিরাপদে প্রশ্ন করতে পারে।
একই শ্রেণিকক্ষে ভিন্ন পৃথিবী
যুক্তরাজ্যে পড়ার আরেকটি উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা হলো বৈচিত্র্য। বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি, বয়স ও শিক্ষাগত পটভূমি থেকে আসা শিক্ষার্থীরা একই শ্রেণিকক্ষে বসে। একই বিষয় নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা ও ব্যাখ্যাও ভিন্ন হতে পারে।
একজন শিক্ষার্থী যে বিষয়টিকে স্বাভাবিক বলে মনে করছে, অন্য দেশের একজন শিক্ষার্থী সেটিকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে। ফলে শ্রেণিকক্ষের আলোচনা শুধু বইয়ের জ্ঞান থেকে তৈরি হয় না; শিক্ষার্থীদের জীবন-অভিজ্ঞতাও সেখানে জ্ঞানের একটি উৎস হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এখানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পার্থক্যকে শুধু সমস্যা হিসেবে না দেখে শেখার একটি সম্পদ হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে।
বিদেশে এসে কি সবকিছু ভালো লেগেছে
না। বরং বিদেশে এসে যে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছি, তার একটি হলো—কোনো শিক্ষাব্যবস্থাকেই নিখুঁত ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের অনেক শক্তি রয়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যে পড়াশোনা করা, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে টিকে থাকা এবং কঠোর পরিশ্রম করার অভিজ্ঞতা তাদের নিজস্ব সক্ষমতা তৈরি করে। অন্যদিকে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার সামনে বড় শ্রেণি, প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত শিক্ষা-উপকরণ, পরীক্ষাকেন্দ্রিকতা এবং কিছু ক্ষেত্রে মুখস্থনির্ভরতার মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যুক্তরাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় স্বনির্ভর শিক্ষা, বিশ্লেষণী চিন্তা, শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও বৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়গুলো থেকে আমরা শিখতে পারি। তবে এর অর্থ বিদেশি কোনো পদ্ধতি হুবহু বাংলাদেশে প্রয়োগ করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে—এমন নয়। আমাদের প্রয়োজন নিজেদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যকর পদ্ধতিগুলো গ্রহণ করা।
শিক্ষকতার পর আবার পড়াশোনা—কেন
দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করার পর আবার পড়াশোনা শুরু করার প্রয়োজন কী—এ প্রশ্ন অনেকেরই থাকতে পারে। আমার অভিজ্ঞতায় এর উত্তর শুধু ‘আরেকটি ডিগ্রি’ অর্জন নয়।
দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করতে করতে আমরা অনেক কিছু শিখি। কিন্তু একই সঙ্গে কিছু ধারণা, অভ্যাস ও শিক্ষাদান পদ্ধতির মধ্যে আটকে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। নতুন পরিবেশে আবার শিক্ষার্থী হলে নিজের পরিচিত ধারণাগুলোকে প্রশ্ন করার সুযোগ তৈরি হয়। আমার কাছে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা সেই সুযোগ তৈরি করেছে। নতুন কিছু শিখেছি, আবার পুরোনো কিছু বিষয়কে নতুন চোখে দেখেছি। বুঝেছি, শিক্ষক যত অভিজ্ঞই হন, শেখার প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে আলাদা করা যায় না।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য কী বার্তা
বিদেশে পড়তে চাইলে প্রথমেই শুধু ‘কোন দেশে যাব’—এ প্রশ্ন না করে ‘কেন পড়তে চাই’—এই প্রশ্ন করা দরকার।
কোন বিষয়ে পড়তে চান, সেই বিষয়ে আপনার শিক্ষাগত পটভূমি কী, ভবিষ্যৎ পেশাগত লক্ষ্য কী, কোন বিশ্ববিদ্যালয় আপনার জন্য উপযুক্ত এবং অর্থায়নের সুযোগ কী—এসব আগে বুঝতে হবে। শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো পোস্ট দেখে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করা উচিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট, পাঠ্যক্রম, ভর্তিসংক্রান্ত শর্ত, অর্থায়নের সুযোগ এবং শিক্ষকদের গবেষণার ক্ষেত্র যাচাই করা জরুরি। আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—বিদেশে পড়াশোনা মানে শুধু একটি ডিগ্রি অর্জন নয়। এটি নতুন শিক্ষাব্যবস্থা, নতুন মানুষ এবং নতুন চিন্তার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ।
আবার শিক্ষার্থীর আসনে বসার শিক্ষা
দেড় দশকের বেশি সময় শিক্ষকতা করার পর আবার শিক্ষার্থীর আসনে বসা আমার জন্য অনেকটা আয়নার সামনে দাঁড়ানোর মতো। এতে নিজের শক্তি যেমন দেখেছি, তেমনি সীমাবদ্ধতাও নতুনভাবে দেখেছি। সবচেয়ে বড় উপলব্ধি হলো—শিক্ষক হওয়া মানে শেখা শেষ হয়ে যাওয়া নয়; বরং একজন ভালো শিক্ষককে সারা জীবন শিক্ষার্থী হয়ে থাকতে হয়। কারণ, শিক্ষা কোনো একমুখী প্রক্রিয়া নয়। শিক্ষক শিক্ষার্থীকে শেখান, আবার শিক্ষার্থীর প্রশ্ন শিক্ষককেও শেখায়। একটি শ্রেণিকক্ষে বই যেমন জ্ঞানের উৎস, তেমনি মানুষের অভিজ্ঞতাও জ্ঞানের উৎস। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে এসে আমার পরিচয় বদলেছে—কিছুদিনের জন্য শিক্ষক থেকে শিক্ষার্থী হয়েছি। কিন্তু এই পরিবর্তন আমাকে শিক্ষকতা থেকে দূরে নেয়নি; বরং শিক্ষকতার অর্থকে আরও বিস্তৃত করেছে।
আবার যখন কোনো শিক্ষার্থীর সামনে দাঁড়াব, তখন শুধু তাকে কী শেখাব—সেটিই ভাবব না; বরং ভাবব, ‘আমি তার কাছ থেকেও কী শিখতে পারি!’ হয়তো একজন শিক্ষককে আজীবন শিক্ষার্থী করে রাখার সবচেয়ে বড় শক্তি এখানেই।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান, বর্তমানে শিক্ষা প্রেষণে যুক্তরাজ্যে অধ্যয়নরত
ই–মেইল: m.mia2705@gmail.com
সূত্র: প্রথম আলো
সম্পর্কিত সংবাদ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রক্টর নাছির আহমাদ, চার দপ্তরের পরিচালকের রদবদল
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ এ ২:১২ PM · প্রথম আলো
অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি স্নাতকেরা চাকরি পেতে কেন ভোগান্তিতে
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১১:৪৭ AM · প্রথম আলো
ব্র্যাক কৃষিপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা ইন অ্যাগ্রিকালচারে ভর্তির সুযোগ
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১০:১৫ AM · প্রথম আলো
জুলাইয়ের প্রতিশ্রুতি, অক্টোবরেও অনিশ্চিত বিনামূল্যের স্কুল ড্রেস বিতরণ
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৮:০০ AM · বাংলা ট্রিবিউন
শিক্ষার্থীদের জন্য চার নতুন বই, এইচএসসির ফল ৩১ অক্টোবর
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১০:২৫ PM · বাংলা ট্রিবিউন
