শাহজাদপুর সংবাদ

ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান হলে কেউ রক্ষা পাবেন না, ন্যূনতম বোঝাপড়ার আহ্বান রিজভীর

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১০:১৩ PM

ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান হলে কেউ রক্ষা পাবেন না, ন্যূনতম বোঝাপড়ার আহ্বান রিজভীর

আগুন-বোমাবাজি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বিরোধী দলকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিরোধী দলসহ সবাইকে ন্যূনতম বোঝাপড়ার জায়গায় কাজ করতে হবে। অন্যথায় ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটলে কেউ রক্ষা পাবেন না। কারণ, তাঁরা অত্যন্ত ভয়ংকর জায়গা থেকে মদদ পাচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে পৃথক কর্মসূচিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এ কথা বলেন।

সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির এই নেতা। তিনি সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটলে গণতন্ত্র তো দূরের কথা, রাষ্ট্রই আর টিকবে না। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে হলে যত কর্মসূচি, বিতর্ক বা তীব্র সমালোচনা থাকুক না কেন, একটি ন্যূনতম যোগসূত্র বা বোঝাপড়ার জায়গায় কাজ করতে হবে। অন্যথায় ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটলে কেউ রক্ষা পাবেন না।

বর্তমানে বিরোধী দলের কর্মসূচিতে কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে রিজভী বলেন, গণতন্ত্রে বিরোধী দল তাদের কর্মসূচি পালন করবে, কথা বলবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু গণতন্ত্র মানে যা ইচ্ছা তা বলা নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে কোনো দেশের পেছনের উঠান বা পশ্চাদ্‌ভূমিতে পরিণত করার ষড়যন্ত্র যেন সফল না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

বিকেলে ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশব্যাপী নৈরাজ্যের প্রতিবাদে’ রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আগুন-বোমাবাজি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অভিযোগ করে বলেন, ‘যারা সন্ত্রাসী, যারা আগুন লাগাচ্ছে, যারা বোমাবাজি করছে, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার শত্রু, গণতন্ত্রের শত্রু।’

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত এই বিক্ষোভ মিছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সমাবেশে করেন তাঁরা।

সমাবেশে রিজভী বলেন, ‘এই যে পরিকল্পিত ঘটনা, আজকে পত্রিকায় এসেছে, বিদেশি নম্বর থেকে নির্দেশনা আসছে। টেলিফোন নম্বরটি কার? কে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নির্দেশ দিচ্ছে? ফোন নম্বরটি হচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশের। তাহলে বুঝুন, ষড়যন্ত্রের গভীরতা কত দূরে।’

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটা সরকার জনগণকে কখনো কষ্ট দিতে চায় না, চায়নি। ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধ শুরু হয়েছে। অনেক আগেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কথা, কিন্তু সেটাকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা জাতীয় স্বার্থের সরকার, জনগণের পক্ষের সরকার, দেশের স্বাধীনতার পক্ষের সরকার, তারেক রহমানের সরকার।’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী (এ্যানি) বলেন, কিছুদিন ধরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বিভিন্নভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা ৫ আগস্ট পালিয়েছে। দেশের বাইরেও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দেশের ভেতর থেকেও অনেকে আরেকটি অপশক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘দুইটা অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই-সংগ্রাম চলছে।’

বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে সচল করে নতুন বাংলা গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঠিক তখনই এই আট মাসের সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি মহল এবং দেশের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা একটি চক্র ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেন, যারা কালচারাল ফ্যাসিস্ট, যারা ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীদের বাংলাদেশে পুনর্বাসন করতে চায়, তাদের সরাসরি প্রতিহত করা হবে।

সমাবেশে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ