শাহজাদপুর সংবাদ

পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়িয়ে বাজার ধরছে ‘ইনোভার’

৮ নভেম্বর, ২০২৬ এ ৩:০৫ PM

পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়িয়ে বাজার ধরছে ‘ইনোভার’

একটি নতুন বাড়ি সাজানোর কথা ভাবলে প্রথমেই মনে আসে গুণগত মানের নানা নির্মাণ উপকরণ কিংবা নকশা করা আসবাব। দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি বাড়িতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, হোম অ্যাপ্লায়েন্স বা পানির পাম্প। এসব নির্বাচনের ক্ষেত্রে সেই সতর্কতা অনেক সময়ই চোখে পড়ে না। যদিও জীবনযাপনের স্বাচ্ছন্দ্য অনেকাংশেই এই পণ্যগুলোর ওপর নির্ভর করছে। ঠিক এই বাস্তবতা থেকেই ইলেকট্রনিকস, ইলেকট্রিক্যাল, পাম্প ও হার্ডওয়্যার খাতে গুণগত মানের পণ্য ও আস্থা তৈরিতে কাজ করছে আকিজ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ফ্ল্যাগশিপ ব্র্যান্ড ইনোভার পণ্যের কার্যকারিতা, আধুনিক নকশা, প্রযুক্তি ও নির্ভরযোগ্যতার সমন্বয়ে পণ্য বাজারজাত করছে। গ্রাহকের চাহিদা ও জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে জোর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

আকিজ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড জানায়, ‘ডিজাইনড ফর নাউ’ স্লোগানে ২০২৫ সালের ৮ নভেম্বর ইনোভার ব্র্যান্ড আনুষ্ঠানিক যাত্রা করে। শুরুতে এলইডি লাইটিং ও বৈদ্যুতিক পণ্য নিয়ে বাজারে আসে। প্রথম বছরের মধ্যেই হোম অ্যাপ্লায়েন্স, পাম্প, টুলসসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পণ্যের পরিসর বাড়ায় প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে ইনোভারের ৪০০–এর বেশি পণ্যের সম্ভার রয়েছে। এসব পণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রমও সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ জন্য সারা দেশে ৭০০ পরিবেশক ও সরবরাহকারী ব্যবসায়ীর মাধ্যমে পণ্য পরিবেশনের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমান সময়ে মানুষের চাহিদা ও জীবনযাত্রার উপযোগী করে পণ্যের নকশা তৈরি করা হচ্ছে। ইনোভার ব্র্যান্ড জ্বালানি, উদ্ভাবন ও আস্থাকে প্রাধান্য দিচ্ছে। আর এই তিন বিষয়কে সামনে রেখে ব্র্যান্ডটির পণ্যের সম্ভার সাজানো হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের মতে, ইলেকট্রিক্যাল ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্যের মতো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক খাতে নতুন ব্র্যান্ড হিসেবে যাত্রা শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই ক্রেতাদের বেশ ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন। এতে পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা তৈরি হওয়ায় ব্যবসার পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে পণ্যের দাম, স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা ও দীর্ঘদিন ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা। পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি মানের ধারাবাহিকতা ও ক্রেতার আস্থা অর্জনের জন্য কাজ করছে ব্র্যান্ডটি।

আকিজ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদুল ইসলাম এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আকিজ রিসোর্সের লিগ্যাসি ইনোভার এক বছরে বাজারে ভালো অবস্থান তৈরিতে বড় অবদান রেখেছে। তবে ইনোভার ব্র্যান্ডের পণ্যের গুণগত মান, আধুনিক নকশা আর এর নতুন নতুন প্রযুক্তিগত সুবিধা ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করেছে। এসব বৈশিষ্ট্য প্রতিনিয়ত আমাদের পণ্যকে বাজারের সবার চেয়ে আলাদা করে চলেছে। তা ছাড়া আমরা দক্ষ জনবল দিয়ে সেরা মানের পণ্য উৎপাদন করে বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করছি।’

মানুষের জীবনযাত্রা ও পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে পণ্য তৈরি করা হচ্ছে উল্লেখ করে সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পণ্যের নকশা, ব্যবহারিক সুবিধা এবং গ্রাহকের অভিজ্ঞতার মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে চাই। পাশাপাশি গ্রাহকের চাহিদা বোঝা, বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা এবং পণ্য সম্পর্কে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো, ইনোভারকে এমন একটি ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলা, যার পণ্য গ্রাহকের দৈনন্দিন জীবনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’

বৈদ্যুতিকসহ প্রকৌশল পণ্যের বাজারে অল্প সময়ে এ ব্র্যান্ড সুনাম অর্জন করেছে। পণ্যের নকশা ও প্রচারের পাশাপাশি উৎপাদনের প্রক্রিয়া, মান নিয়ন্ত্রণ ও পণ্যের কার্যকারিতা যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে বড় ভূমিকা রাখছে প্রতিষ্ঠানটির আধুনিক কারখানা। নারায়ণগঞ্জে প্রায় দুই লাখ বর্গফুটের এই কারখানায় পণ্য উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যবহার হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। রোবোটিক আর্ম ও প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটেড) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। কারখানায় ব্যবহৃত প্রতিটি মেশিনই সপ্তম প্রজন্মের প্রযুক্তিসম্পন্ন। এ ছাড়া দেশে লো–ভোল্টেজ বৈদ্যুতিক উৎপাদন শিল্পে সিএফএস (সেন্ট্রাল ফিডিং সিস্টেম) প্রযুক্তি ব্যবহার করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় অপচয় কমছে, মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন কমছে এবং উৎপাদনে নির্ভুলতা ও পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা সহজ হচ্ছে।

এ বিষয়ে সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কারখানা থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। এখানে বিভিন্ন উৎপাদন লাইনের পাশাপাশি মিনিয়েচার সার্কিট ব্রেকার (এমসিবি) তৈরির জন্য কাঁচামাল থেকে শুরু করে চূড়ান্ত সংযোজন পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয় উৎপাদনব্যবস্থা রয়েছে। বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এসব পণ্যের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সরাসরি ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই কারখানার মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা পণ্যের ত্রুটি শনাক্ত করা, মানের সামঞ্জস্য বজায় রাখা এবং ক্রেতার আস্থা তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছে।’

প্রথম বছরেই ইনোভার চারটি প্রধান ক্যাটাগরিতে নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারিত করেছে, যা একটি বাড়ির বেশির ভাগ বৈদ্যুতিক ও হার্ডওয়্যার চাহিদা মেটাতে সক্ষম।

বৈদ্যুতিক: বাড়ি বা অফিসের জন্য এলইডি লাইট, আকর্ষণীয় নকশার সুইচ, সকেট ও নিরাপত্তার জন্য ডিস্ট্রিবিউশন বক্স।

গৃহস্থালির সামগ্রী: আধুনিক রান্নাঘরের জন্য রাইস কুকার, গ্যাস স্টোভ, ইনফ্রারেড কুকার, ইলেকট্রিক কেটলি ও দৈনন্দিন কাজের জন্য ড্রাই ও স্টিম আয়রন, গিজার।

পাম্প: আবাসিক ও কৃষি ব্যবহারের

জন্য সারফেস, সাবমারসিবল ও সেন্ট্রিফিউগাল পানির পাম্প।

টুলস: দৈনন্দিন মেরামতের জন্য স্ক্রু ড্রাইভার, প্লায়ার্স, হ্যামার, রেঞ্চ ও পেশাদার কাজের জন্য অ্যাঙ্গেল গ্রাইন্ডার, এয়ার ব্লোয়ার, ড্রিল মেশিন ও বিভিন্ন কাটিং গ্রাইন্ডিং ডিস্ক।

ভবিষ্যতে এই পণ্যের সম্ভার আরও বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ফ্যান, কেব্লস ও আইওটিভিত্তিক স্মার্ট হোম সলিউশন বাজারে আনার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। দেশীয় পণ্যে যা আধুনিক বাড়িগুলোকে প্রযুক্তিবান্ধব করে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

বাজারে পণ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে ইনোভার সারা দেশে শক্তিশালী ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছ। বর্তমানে ৭০০–এর বেশি ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটর এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ব্র্যান্ডটির লক্ষ্য শুধু পণ্য বিক্রি নয়, সেই পণ্যের সার্ভিসও নিশ্চিত করা। এ জন্য দক্ষ সার্ভিস টিম তৈরি করছে তারা, যারা দেশের যেকোনো প্রান্তে ভোক্তাদের প্রয়োজনের ভিত্তিতে সেবা নিশ্চিত করে থাকে। গ্রাহকের আস্থা অর্জন, পণ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং মানসম্মত গ্রাহকসেবা প্রদানের মাধ্যমে ইনোভারকে একটি নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন ব্র্যান্ডটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ইনোভারের এই দ্রুত প্রসারের পেছনে কাজ করেছে তাদের সুনির্দিষ্ট কিছু ‘ক্রিটিক্যাল সাকসেস ফ্যাক্টর’। নিজস্ব আধুনিক কারখানা এবং শক্তিশালী সোর্সিং নেটওয়ার্ক তো আছেই, পাশাপাশি তারা জোর দিয়েছে দক্ষ জনবলের ওপর। এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের ৮৫ শতাংশই সংশ্লিষ্ট শিল্পের দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মী।

প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রতিষ্ঠানটি এক ধাপ এগিয়ে। ব্যবসা পরিচালনায় অটোমেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এর ফলে সোর্সিং থেকে শুরু করে প্রোডাকশন, ডিস্ট্রিবিউশন, রিটেইল এবং প্রান্তিক ভোক্তা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেটেড হয়েছে। পাশাপাশি দেশের মানুষের কাছে আকিজ নামের দীর্ঘদিনের আস্থা বা ‘আকিজ লিগ্যাসি’ এই ব্র্যান্ডের বাজার তৈরিতে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছে। প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দাঁড়িয়ে ইনোভার তাই অতীতের সাফল্য উদ্যাপন করছে না; বরং ভবিষ্যতের স্মার্ট বাড়ির ভিত্তি তৈরি করছে। শক্তি, উদ্ভাবন ও নির্ভরযোগ্যতার সমন্বয়ে তারা দেশের মানুষের আধুনিক জীবনযাত্রার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠতে চায়।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ