টি–টুয়েন্টিতে ছক্কার ‘ওস্তাদ’ কোন দল, বাংলাদেশ কতটা পারে
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১২:০৩ PM

ছক্কার কদর সবসময়ই ছিল। এমনকি দেখেশুনে খেলার টেস্ট ক্রিকেটেও। ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হলে দায় আপনার! তবে সফল হয়ে গেলে সাধারণত প্রশংসাই মেলে। তবে ওভার বাউন্ডারি নামে পরিচিত ছক্কার কদরটা টি–টুয়েন্টিতে একটু বেশিই।
খেলাটাই যে ছক্কার। যত মারবেন তত এগোবেন। সবাই অবশ্য চাহিদা অনুসারে মারতে পারে না। কিন্তু কেউ কেউ বিশেষভাবেই পারে। আর তা এতো বেশি যে, তাদের খেলা দেখতে নড়েচড়ে বসেন সবাই।
টি–টুয়েন্টিতে ছক্কার প্রসঙ্গ এলে সবার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলটার কথাই মাথায় আসায় কথা বেশির ভাগের। ক্যারিবীয়ান দ্বীপ থেকে উঠে আসা একেকজন ব্যাটসম্যান কী সহজেই না বাউন্ডারি পার করিয়ে ফেলতে পারেন। পরিসংখ্যানও কিন্তু একই সাক্ষ্য দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে ছক্কা মারায় সবচেয়ে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজই।
এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, তখন ২০২৬ সাল। নতুন কোনো সূচি যোগ না হলে এ বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের এ বছর আর কোনো টি–টুয়েন্টি নেই। আর না থাকার অর্থ হচ্ছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০২৬ সাল শেষ করতে যাচ্ছে টি–টুয়েন্টিতে ২০২৬ ছক্কা নিয়ে!
আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে ছক্কার সংখ্যায় দুইয়ে আছে ভারত। তারা মেরেছে ২০১৭টি। দুই দলের ব্যবধান মাত্র ৯ ছক্কার। তবে ভারত ম্যাচ খেলেছে বেশি—২৯৮টি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ ২৬০।
তালিকায় পরের নামটি নিউজিল্যান্ডের। তাদের ছক্কা ১৫৮৫টি। পাকিস্তানের ১৫০৭। দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ছক্কাও ১৪০০ এর আশপাশে। মানে আর কোনো দল ২০০০ ছক্কার আশপাশেও নেই।
বাংলাদেশের ছক্কা ৯৮৬টি। ম্যাচ খেলেছে ২২২টি। ছক্কার হিসাবে শীর্ষ দশে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের ছক্কাই শুধু হাজারের নিচে। এমনকি আফগানিস্তানও বাংলাদেশের চেয়ে বেশি ছক্কা মেরেছে, ১০১৪টি।
অথচ আফগানিস্তান প্রথম আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি খেলেছে ২০১০ সালে, বাংলাদেশ তারও চার বছর আগে থেকে। আফগানিস্তান ম্যাচও খেলেছে বেশ কম, ১৬৮টি।
এই তালিকাতেও সবার ওপরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রতি ১৩.৯৩ বলে একটি ছক্কা মেরেছে। ভারতের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি ১৬.১৬ বলে। অস্ট্রেলিয়ার ১৭.৪৭, ইংল্যান্ডের ১৮.০০ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ১৮.৪০ বল করে লেগেছে। নিউজিল্যান্ডের ক্ষেত্রে প্রতি ছক্কায় গড় বল ১৮.০৯।
বল প্রতি ছক্কাতেই বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জটা স্পষ্ট হয়। বাংলাদেশ একটি ছক্কা মারতে গড়ে ২৫.৩৯ বল খেলেছে। অর্থাৎ, ১২০ বলের খেলায় বাংলাদেশ একটি করে ছক্কা পায় ২৫ বল পর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ব্যবধান ১১ বলের বেশি। আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রতি ছক্কায় বাংলাদেশের চেয়ে বেশি বল লাগে শুধু শ্রীলঙ্কার। তাদের প্রতি ছক্কায় গড় বল দরকার ২৬.১২।
ব্যাটসম্যানদের সেঞ্চুরির তালিকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ অবশ্য পিছিয়ে আছে। সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করেছেন ভারতের ব্যাটসম্যানেরা—২৭। এখানে তাদের ধারেকাছেও কেউ নেই। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক নিউজিল্যান্ড, ১৪টি।
ভারতের ব্যাটসম্যানদের ফিফটি আছে ২৫৫টি, এটিও সর্বোচ্চ। ভারত ছাড়া ২০০ ফিফটি আছে শুধু পাকিস্তানের, ২০২টি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেঞ্চুরি ৯টি, ফিফটি ১৫৮টি।
বাংলাদেশের দুজন ব্যাটসম্যান আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন—তামিম ইকবাল ও পারভেজ হোসেন। এখানেও আফগানিস্তানের চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ, তাদের সেঞ্চুরি আছে ৩টি। এমনকি জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের সেঞ্চুরিও ৩টি। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি করা ১০টি দেশের তালিকাতেও নেই।
বাংলাদেশ স্ট্রাইকরেট বিবেচনায় শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকাতেও নেই। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের গড় স্ট্রাইকরেট ১১৭.২৫। গড়টাও ২০ এর নিচে, ১৯.৩৪। এখানেও নেই শীর্ষ দশে। স্ট্রাইকরেট ও গড়—দুই জায়গাতেই সবার আগে ভারত।
সূত্র: প্রথম আলো
সম্পর্কিত সংবাদ
আবারও মেসি–জাদু, প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙেচুরে করলেন জোড়া গোল
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৮:৫৭ AM · প্রথম আলো
