‘জম্বির মতো ডাইভ দিতাম, প্রতি রাতে কাঁদতাম’: আঙুল ভেঙেও যেভাবে আর্জেন্টিনার জন্য লড়েছিলেন মার্তিনেজ
১ নভেম্বর, ২০২৬ এ ১২:০০ PM

ফুটবল মাঠে গোলকিপারের কাজটা এমনিতেই কঠিন। গোল বাঁচাতে কখনো ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়, কখনো হাত বাড়িয়ে দিতে হয়। কখনো বলের পেছনে ছুটতে গিয়ে নিজের শরীরের কথাও ভুলে যেতে হয়। কিন্তু একটা আঙুলের চোট যে একজন গোলকিপারের জীবনকে এতটা বদলে দিতে পারে, তা হয়তো এমিলিয়ানো মার্তিনেজের গল্প না শুনলে বোঝা কঠিন। ব্যথা কাকে বলে, সেটা এই আর্জেন্টাইন গোলকিপার হাড়ে হাড়ে বুঝেছেন।
এ বছরের মে মাসে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ইউরোপা লিগের ফাইনালে ফ্রাইবুর্গের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ওয়ার্মআপ করতে গিয়ে আঙুল ভাঙেন মার্তিনেজ। আঙুল শুধু ভাঙেনি, স্থানচ্যুতও হয়েছিল। চোটের ভয়াবহতা বুঝতে স্ক্যান করানোর পর ৩৪ বছর বয়সী গোলকিপারের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। সামনে ছিল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার অভিযান। সেখানে তাঁর খেলা নিয়েই তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। অস্ত্রোপচার করালে বিশ্বকাপ খেলা হতো না। আর অস্ত্রোপচার না করালে? বয়ে বেড়াতে হবে অসহ্য যন্ত্রণা।
মার্তিনেজ দ্বিতীয় পথটাই বেছে নেন। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির সমর্থনও পেয়েছেন। বিশেষভাবে তৈরি অ্যাডিডাসের গ্লাভস পরে খেলেছেন। আঙুলে ছিল ভারী ব্যান্ডেজ। কিন্তু তাতে বল ঠিকমতো ধরার ক্ষমতাই অনেকটা কমে গিয়েছিল।
কেমন ছিল সেই দিনগুলো? আর্জেন্টাইন সাংবাদিক গাস্তন এদুলের ইউটিউব চ্যানেলে নিজের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে মার্তিনেজ জানিয়েছেন, আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন এক হাত দিয়ে ডাইভ দিতে হচ্ছিল তাঁকে। নিজের ভাষায়, ‘আমি তখন জম্বির মতো ডাইভ দিচ্ছিলাম। হাতটা মাটিতে রাখলেই চোখে তারা দেখতাম। ভয়াবহ যন্ত্রণা ছিল। প্রতিটি রাতে আমি কাঁদতাম। আমার আঙুলটা সসেজের মতো ফুলে থাকত।’
একজন গোলকিপারের জন্য হাতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র আর কী হতে পারে! সেই হাতের আঙুলই যখন স্বাভাবিকভাবে কাজ করে না, তখন প্রতিটি সেভই হয়ে ওঠে একেকটি যুদ্ধ। মার্তিনেজ জানেন, আঙুলটি আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরবে না। এখনো ব্যথা নিয়ে খেলতে হচ্ছে তাঁকে। তবু কোনো অনুশোচনা নেই, ‘এটা আর কখনো আগের মতো হবে না। এখনো ব্যথা নিয়ে খেলছি। কিন্তু জাতীয় দলের জন্য এমন ঝুঁকি নিতেই হয়। আবারও একই কাজ করব।’
দেশের জন্য সবকিছু উজাড় করে দেওয়ার গল্প ফুটবলে নতুন নয়। তবে মার্তিনেজের গল্পে একটা বাড়তি নির্মমতা আছে। যে হাত দিয়ে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল বাঁচাতে হয়, সেই হাতের স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা জেনেও তিনি থামেননি। এর প্রভাব পড়েছে ক্লাব ক্যারিয়ারেও।
গ্রীষ্মকালীন দলবদলে জুভেন্টাসে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল মার্তিনেজের। কিন্তু মেডিক্যাল পরীক্ষায় আঙুলের চোটের পুরো চিত্র সামনে আসতেই ভেস্তে যায় ইতালিয়ান ক্লাবটিতে যাওয়ার স্বপ্ন। এক্স-রে করানোর পর দেখা যায়, আঙুলটি আবারও ভেঙেছে। মার্তিনেজের ভাষায়, ‘আমি এক্স-রে করিয়েছিলাম। দেখা গেল, আবার ভেঙেছে। এই আঙুলের কারণেই একটা ক্লাবে যাওয়ার দলবদল ভেস্তে যায়।’
জুভেন্টাসে যাওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত খুব অল্প দলবদল ফি-তে (মাত্র ৭৫ লাখ পাউন্ডে) চেলসিতে যোগ দেন এমিলিয়ানো। চেলসির মেডিক্যাল টিম শুরুতেই তাঁকে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে দিয়েছিল। তবে সে জন্য মৌসুমের শুরুতেই লম্বা সময় বাইরে থাকতে হতো। মার্তিনেজ চেয়েছেন আপাতত চোট নিয়েই খেলতে। তাঁর কথায়, ‘তারা বলেছিল, এভাবে খেলতে পারব। তবে অস্ত্রোপচার এক সময় লাগবেই। চেলসি এটা নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামায়নি। কিন্তু একদিন আমার অস্ত্রোপচার করাতেই হবে।’
এখন অবশ্য আঙুলের চেয়েও বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে অন্য একটি চোট। এ মাসের শুরুতে এভারটনের বিপক্ষে চেলসির জয়ের ম্যাচে চোয়াল ভেঙেছে তাঁর। লন্ডনের ক্লাবটির হয়ে এখন পুনর্বাসনপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে আবারও প্রথম একাদশে জায়গা ফিরে পাওয়াই তাঁর লক্ষ্য।
চোয়ালের চোট একদিন সেরে যাবে। আঙুলের ক্ষতি মার্তিনেজ করেছেন দেশের জন্য ঝুঁকি নিয়ে, সেটা থেকে যাবে অনেক দিন।
সূত্র: প্রথম আলো
সম্পর্কিত সংবাদ
‘হামজা আসায় বাংলাদেশের ফুটবলে ক্রেজ বেড়েছে, সাফেও ভালো করবে’
১ নভেম্বর, ২০২৬ এ ১:০৪ PM · বাংলা ট্রিবিউন
উইকেটে ঘাস থাকুক বা না থাকুক, বোলারদের আতঙ্কের নাম এখন অভিষেক
১ নভেম্বর, ২০২৬ এ ১০:০৩ AM · প্রথম আলো
