ক্রেতারা এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিচক্ষণ
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৮:৫৫ AM

প্রথম আলো: শেল্টেক্ মূল ঢাকার পাশাপাশি পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প জলসিঁড়িতে একসঙ্গে অনেকগুলো প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। মূল ঢাকার পরিবর্তে জলসিঁড়িতে প্রকল্প নেওয়ার কারণ কী?
তানভীর আহমেদ: এটি মূল ঢাকা থেকে সরে যাওয়া নয়; বরং পরিকল্পিত আবাসনে আমাদের উপস্থিতি বাড়ানো। জলসিঁড়ির পরিকল্পিত সড়ক, উন্মুক্ত পরিসর ও সবুজ পরিবেশে সমন্বিতভাবে আবাসন গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। এখানে আমাদের পরিকল্পনায় ২১টি প্রকল্পে ১৬৮টি আবাসিক ইউনিট প্রকল্পগুলোর প্রতি তলায় একটি করে প্রশস্ত অ্যাপার্টমেন্টের সঙ্গে কমিউনিটি স্পেস ও ছাদবাগান রাখা হচ্ছে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, পারিবারিক স্বাচ্ছন্দ্য এবং পরিকল্পিত পরিবেশকে আমরা একসঙ্গে গুরুত্ব দিচ্ছি।
প্রথম আলো: গত পাঁচ বছরে ঢাকার আবাসন ক্রেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন কী দেখছেন—ক্রেতার আচরণ, ফ্ল্যাটের আকার, অবস্থান নাকি দামের ক্ষেত্রে পরিবর্তনটি বেশি?
তানভীর আহমেদ: আমার দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ক্রেতার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতিতে। ক্রেতারা এখন স্মার্টলি ভাবছেন। শুধু ঠিকানা বা বর্গফুট নয়, আলো–বাতাস, নিরাপত্তা, যাতায়াত, রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ইত্যাদি মিলিয়ে একটি প্রপার্টির মূল্য বিচার করা জরুরি হয়ে উঠেছে। সবার চাহিদা এক নয়। কেউ বড় পারিবারিক পরিসর চান, কেউ সীমিত বাজেটে ভালো পরিবেশে সুন্দর নকশা খোঁজেন। আবার বাণিজ্যিক জায়গার ক্ষেত্রে যুক্ত হচ্ছে লোকেশন ও আধুনিক ফিচার। আমাদের চ্যালেঞ্জ হলো ভিন্ন ভিন্ন চাহিদার সঙ্গে দামে ভারসাম্য রেখে নির্মাণ মান ও নিরাপত্তায় ছাড় না দিয়ে আধুনিক প্রকল্প নির্মাণ করা।
প্রথম আলো: ফ্ল্যাট বিক্রি এখন আর শুধু ‘বর্গফুট’ বিক্রি নয়, জীবনযাপনের একটি অভিজ্ঞতা বিক্রি। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে শেল্টেক্ এই বিষয়গুলো কীভাবে দেখে থাকে?
তানভীর আহমেদ: ১৯৮৮ সালে যাত্রার শুরু থেকেই আমাদের দর্শন ছিল মানুষের জন্য নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য আবাসন তৈরি করা। সেখানে আলো–বাতাস থাকবে, পরিবারের সদস্যদের গোপনীয়তা থাকবে, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার সুযোগ থাকবে এবং কমার্শিয়াল স্পেসের ক্ষেত্রে ব্র্যান্ড ভিজিবিলিটি ও পজিশনিং থাকবে। তাই নকশার পাশাপাশি কমিউনিটি স্পেস, সবুজায়ন, শিশুদের জায়গা এবং হস্তান্তরের পরের সেবাকেও আমরা আবাসনের অংশ হিসেবে দেখি। আমাদের কাছে ক্রেতার অভিজ্ঞতা হ্যান্ডওভারের পর থেকেই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
প্রথম আলো: আবাসন প্রকল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ কতটা দেখছেন? ভবিষ্যতে এগুলো কি ভবনের নকশা ও নির্মাণের পাশাপাশি বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনও বদলে দেবে?
তানভীর আহমেদ: নকশার বিশ্লেষণ, কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, জ্বালানি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন আগাম বোঝার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রকৌশল সিদ্ধান্তে বিশেষজ্ঞের যাচাই অপরিহার্য। আমাদের কর্মীদের প্রযুক্তি সক্ষমতা বাড়াতে ২০২৬ সালের জুনে কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারবিষয়ক প্রশিক্ষণ হয়েছে। লিগ্যাসি প্লাজায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা ও আধুনিক ভবন ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনাও রয়েছে। আমরা প্রযুক্তিকে প্রয়োজনভিত্তিকভাবে দেখি। আমাদের অগ্রাধিকার হলো নিরাপত্তা, কার্যকারিতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো।
প্রথম আলো: ফ্ল্যাটের দাম কমানোর সুযোগ কোথায়? জমির দাম, নির্মাণসামগ্রী, নকশা, পার্কিং বা অন্যান্য সুবিধার মধ্যে কোন জায়গায় পরিবর্তন আনলে ক্রেতার জন্য আবাসন তুলনামূলক সাশ্রয়ী হতে পারে?
তানভীর আহমেদ: সাশ্রয়ী আবাসনের পথ নিরাপত্তা বা নির্মাণসামগ্রীর মান কমানো নয়। জমির দক্ষ ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় জায়গার অপচয় কমানো, কার্যকর নকশা, পরিকল্পিত ক্রয় এবং নির্মাণে অপচয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ব্যয় কমানো সম্ভব। পার্কিং ও অন্যান্য সুবিধা বিধিমালা এবং প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে। ছোট কিন্তু ব্যবহারযোগ্য অ্যাপার্টমেন্ট, উপযুক্ত জমিতে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্ব এবং সাশ্রয়ী দীর্ঘমেয়াদি ঋণও গুরুত্বপূর্ণ। ক্রয়মূল্যের পাশাপাশি যাতায়াত, বিদ্যুৎ ও রক্ষণাবেক্ষণের দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় বিবেচনা করলেই প্রকৃত সাশ্রয় বোঝা যায়।
সূত্র: প্রথম আলো
সম্পর্কিত সংবাদ
সময়মতো প্রকল্প হস্তান্তর করা ক্রেতা ও নির্মাতা উভয়ের লাভ
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১২:২৫ PM · প্রথম আলো
চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে প্রায় ১১% হতে পারে, আইএমএফের পূর্বাভাস
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১০:১০ AM · প্রথম আলো
জনতা ব্যাংকের ইউএই কার্যক্রম বাঁচাতে সাড়ে ছয় হাজার কোটি মূলধন প্রতিশ্রুতি সরকারের
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৯:৩০ AM · প্রথম আলো
ব্র্যাক ও সিটি ব্যাংকের নতুন সেবা , কী আছে ‘ডিজিবক্সে’
১২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১২:০০ PM · প্রথম আলো
লেগে থাকা ও টেকসই প্রবৃদ্ধিতই ট্রপিক্যাল হোমসের সাফল্য
১২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১০:০০ AM · প্রথম আলো
