শাহজাদপুর সংবাদ

কেন এপেক্স ফুডসের শেয়ারের দাম সবচেয়ে বেশি বাড়ল

১০ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১০:০০ AM

কেন এপেক্স ফুডসের শেয়ারের দাম সবচেয়ে বেশি বাড়ল

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এপেক্স ফুডসের মুনাফা এক বছরে বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। তাতে গত সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারে মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে গেছে কোম্পানিটির শেয়ার। কোম্পানিটির শেয়ারের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৬৯ টাকা বা প্রায় ২৭ শতাংশ বেড়েছে।

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় এ চিত্র পাওয়া গেছে। গত সপ্তাহে এপেক্স ফুডস সর্বশেষ ২০২৫–২৬ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি অর্থবছর শেষে শেয়ারধারীদের জন্য লভ্যাংশও ঘোষণা করে কোম্পানিটি। আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানিটি এক বছরের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য মুনাফার তথ্য প্রকাশ করে। আর তাতে বাজারে কোম্পানিটির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়। তাতে শেয়ারের দামও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে যায়।

আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে সমাপ্ত ২০২৫–২৬ অর্থবছর শেষে কোম্পানিটি মুনাফা করেছে ৮ কোটি টাকার বেশি। তার আগের অর্থবছরে যার পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে ৪ কোটি টাকা বা দ্বিগুণের বেশি। মুনাফার পাশাপাশি বেড়েছে প্রকৃত সম্পদমূল্য বা এনএভিও।

৪ অক্টোবর কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় গত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। একই সভা থেকে অর্থবছর শেষে শেয়ারধারীদের জন্য ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। ৫ অক্টোবর আর্থিক প্রতিবেদন ও লভ্যাংশের তথ্য দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে কোম্পানিটি। তাতে ওই দিন একলাফে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ৫১ টাকা বা প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে যায়। শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির সেই ধারা অব্যাহত থাকে পরবর্তী দুই কার্যদিবসেও। তাতে লভ্যাংশ ঘোষণার পর তিন কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারের বাজারমূল্য বেড়েছে ৭৯ টাকা। এরপর গত বৃহস্পতিবার প্রতিটি শেয়ারের দাম ১১ টাকা কমেছে। তা সত্ত্বেও গত সপ্তাহ শেষে ঢাকার বাজারে মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে জায়গা করে নেয় কোম্পানিটি।

এপেক্স ফুডস জানিয়েছে, গত অর্থবছরে তাদের ব্যবসা থেকে আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেড়েছে। এ কারণে বছর শেষে মুনাফায়ও বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়। একই সঙ্গে কোম্পানিটির শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শেয়ারে যে বিনিয়োগ রয়েছে, সেসব শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কোম্পানিটির সম্পদমূল্যও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেড়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ১৯৮১ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এপেক্স ফুডস খুবই স্বল্পমূলধনি কোম্পানি। ফলে বাজারে এটির শেয়ারের সংখ্যা খুবই কম। এ অবস্থায় কোম্পানিটির মুনাফা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়ার খবরে শেয়ারের দাম হু হু করে বেড়ে গেছে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, এপেক্স ফুডসের মূলধন ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৫৭ লাখ শেয়ারে বিভক্ত। এ শেয়ারের মধ্যে ৩০ লাখের বেশি শেয়ার রয়েছে কোম্পানির উদ্যোক্তা–পরিচালকদের হাতে। নিয়ম অনুযায়ী, উদ্যোক্তাদের হাতে থাকা এ শেয়ার ঘোষণা ছাড়া বিক্রি করা যায় না। ফলে বাজারে নিয়মিত লেনদেনযোগ্য শেয়ার রয়েছে ২৭ লাখের মতো। ফলে অল্প কিছু শেয়ারের লেনদেনে বাজারে দামও হু হু করে বেড়ে যায় বলে জানান বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি গত সপ্তাহ শেষে ঢাকার বাজারে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে ৯ম অবস্থানে ছিল এপেক্স ফুডস। সপ্তাহের ৫ কার্যদিবসে প্রতিদিন গড়ে ১০ কোটি টাকার সমমূল্যের শেয়ারের হাতবদল হয়েছে কোম্পানিটির।

এ ছাড়া ঢাকার বাজারে গত সপ্তাহ শেষে মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ ৫ কোম্পানির তালিকায় দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম অবস্থানে ছিল যথাক্রমে বিডিল্যাম্পস, আজিজ পাইপস, সোনালী লাইফ ইনস্যুরেন্স ও সোনালী আঁশ। এর মধ্যে বিডিল্যাম্পসের শেয়ারের দাম ৫ কার্যদিবসে ৩৯ টাকা বা ১৭ শতাংশ, আজিজ পাইপসের দাম ১০ টাকা বা ১৩ শতাংশ, সোনালী লাইফ ইনস্যুরেন্সের দাম ১১ টাকা বা সাড়ে ১২ শতাংশ ও সোনালী আঁশের দাম ২৭ টাকা বা সোয়া ১২ শতাংশ বেড়েছে। মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ পাঁচ কোম্পানির সব কটিই মূলত স্বল্পমূলধনি।

এদিকে, ঢাকার বাজারে গত সপ্তাহ শেষে সূচক ও লেনদেন উভয়ই কমেছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের চেয়ে ৫৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৭৬ পয়েন্টে। সূচকের চেয়ে লেনদেন কমে গেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। গত সপ্তাহ শেষে ঢাকার বাজারে দৈনিক গড় লেনদেন আগের সপ্তাহের চেয়ে ২১ শতাংশ কমে নেমে এসেছে ৫৫৬ কোটি টাকায়। তার আগের সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭০৬ কোটি টাকা।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ