শাহজাদপুর সংবাদ

কিশোরদের জন্য আলাদা ‘চ্যাটজিপিটি’, থাকছে বাড়তি নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ

১৯ আগস্ট, ২০২৬ এ ৮:২০ AM

কিশোরদের জন্য আলাদা ‘চ্যাটজিপিটি’, থাকছে বাড়তি নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ

কিশোরদের জন্য আলাদা সংস্করণের চ্যাটজিপিটি চালু করেছে ওপেনএআই। ‘চ্যাটজিপিটি ফর টিনস’ নামের এই সংস্করণে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শিক্ষামূলক সুবিধা এবং অভিভাবকের নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রাখা হয়েছে। র‍য়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবট ব্যবহারে কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যেই নতুন এই সংস্করণ আনা হয়েছে।

ওপেনএআই জানিয়েছে, কোনো ব্যবহারকারী ১৮ বছরের কম বয়সী বলে শনাক্ত হলে বা নিজে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়স উল্লেখ করলে চ্যাটজিপিটির কিশোরদের উপযোগী নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় হবে। বয়স নিয়ে সিস্টেম নিশ্চিত না হলে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ কিশোর-উপযোগী অভিজ্ঞতার দিকে নেওয়ার ব্যবস্থাও ওপেনএআই আগে থেকেই তৈরি করেছে।

এর লক্ষ্য শুধু ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে কিশোরদের দূরে রাখা নয়, বরং এআইকে এমনভাবে ব্যবহার করতে উৎসাহ দেওয়া, যাতে তারা নিজেরা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতে শেখে এবং প্রয়োজনের সময় বাস্তব জীবনের মানুষের কাছ থেকেও সহায়তা নেয়।

চ্যাটজিপিটি ফর টিনসে পড়াশোনার জন্য বেশ কিছু নতুন সুবিধা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্টাডি মোড, কুইজ, শেখার বিষয়কে দৃশ্যমানভাবে বোঝানোর ব্যবস্থা এবং নির্দিষ্ট সময় পড়াশোনার জন্য আলাদা সময় নির্ধারণের সুবিধা।

স্টাডি মোডের উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীকে শুধু সরাসরি উত্তর না দিয়ে ধাপে ধাপে সমস্যা বুঝতে সাহায্য করা। ওপেন এআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের যুক্তি ও চিন্তাশক্তি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ‘হোমওয়ার্ক’ করার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার জন্য বিশেষ অনুস্মারকও রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এআই দিয়ে পুরো কাজ করিয়ে নেওয়ার বদলে শিক্ষার্থীকে শেখার প্রক্রিয়ায় যুক্ত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

নতুন সংস্করণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অভিভাবকদের জন্য বাড়তি নিয়ন্ত্রণ। ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, অভিভাবক ও কিশোরের অ্যাকাউন্ট যুক্ত করার সুযোগ থাকবে। এরপর অভিভাবক কিছু নির্দিষ্ট গোপনীয়তা ও ব্যবহারের সেটিংস নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

এর মধ্যে রয়েছে ‘কোয়ায়েট আওয়ারস’, অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার বন্ধ রাখার ব্যবস্থা। অভিভাবকেরা চাইলে কিছু সুবিধা বন্ধ করতে পারবেন এবং কিশোরের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হলে সতর্কবার্তাও পেতে পারেন।

তবে অভিভাবকেরা সাধারণভাবে তাঁদের সন্তানের সব কথোপকথন সরাসরি দেখতে পারবেন না। ওপেনএআই বলছে, কিশোরদের গোপনীয়তার অধিকারও এই ব্যবস্থায় বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

এআই চ্যাটবটকে কিশোরেরা কখনও কখনও মানসিক বা ব্যক্তিগত সমস্যার সময় সহায়তার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করছে। এ কারণে এই ধরনের ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়েও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

এআই চ্যাটবটের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ক্রমেই ব্যক্তিগত হয়ে উঠছে। ফলে কিশোরেরা গুরুত্বপূর্ণ মানসিক বা ব্যক্তিগত বিষয়ে শুধু এআইয়ের ওপর নির্ভর করলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ওপেনএআইয়ের নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুতর ঝুঁকির কিছু পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের সতর্ক করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে খাদ্যাভ্যাসজনিত মানসিক সমস্যার মতো ঝুঁকির বিষয়েও সতর্কতা যুক্ত করা হয়েছে।

কিশোরদের মধ্যে এআই ব্যবহারের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। পড়াশোনা, তথ্য খোঁজা, লেখালেখি কিংবা সৃজনশীল কাজ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত বিভিন্ন প্রশ্নেও তারা চ্যাটবট ব্যবহার করছে। ফলে বড়দের জন্য তৈরি একই ধরনের এআই অভিজ্ঞতা কিশোরদের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট কি না, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।

ওপেনএআইয়ের এই উদ্যোগ সেই প্রশ্নেরই একটি প্রযুক্তিনির্ভর উত্তর। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এআই যেন শিক্ষার সুযোগ বাড়ায় এবং কিশোরদের শেখার প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করে, সেটিই তাদের লক্ষ্য।

তবে শুধু প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেই ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হবে না। কিশোরদের এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। ওপেনএআইয়ের নিজস্ব নির্দেশনাতেও গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য, সম্পর্ক বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মতো বিষয়ে এআইয়ের উত্তর যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে বিশ্বস্ত প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চ্যাটজিপিটি ফর টিনস চালুর মাধ্যমে কিশোরদের জন্য এআই ব্যবহারে বয়সভিত্তিক নিরাপত্তা, পড়াশোনাকেন্দ্রিক সুবিধা এবং পারিবারিক নিয়ন্ত্রণকে একসঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছে ওপেনএআই। এআই যখন তরুণদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠছে, তখন নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের জন্য এ ধরনের আলাদা ব্যবস্থা ভবিষ্যতের এআই প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

সম্পর্কিত সংবাদ