শাহজাদপুর সংবাদ

কলকাতায় হোটেলে আগুনে সাতক্ষীরার দুজনের মৃত্যু, মরদেহের অপেক্ষায় স্বজনেরা

২০ আগস্ট, ২০২৬ এ ১২:৩০ PM

কলকাতায় হোটেলে আগুনে সাতক্ষীরার দুজনের মৃত্যু, মরদেহের অপেক্ষায় স্বজনেরা

ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার রেবতী সরকার ও আলিমুজ্জামান সাজু। গতকাল বুধবার রাতে তাঁদের মৃত্যুর খবর স্বজনদের কাছে পৌঁছায়। এর পর থেকে দুই পরিবারের বাড়িতে চলছে মাতম। স্বজনেরা এখন অপেক্ষা করছেন মরদেহ দেশে ফেরার।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামে আলিমুজ্জামান সাজুর বাড়িতে গিয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়। বাড়ির সামনে চেয়ার পেতে বসে আছেন অনেকে। কেউ দাঁড়িয়ে কাঁদছেন, কেউ সাজুকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করছেন। বাড়ির সামনে কাঁদছিলেন সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার ও বড় ভাবি কানিস আক্তার।

সাহেব সরদার বলেন, ‘সাজু পাঁচ থেকে ছয় দিন আগে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিল। সে সুস্থ-সবল ছিল। চেকআপ করানোর জন্যই গিয়েছিল। গতকাল সন্ধ্যা ছয়টার দিকে জানতে পারি, ওই আগুনে সাজু মারা গেছে।’ তাঁদের এক ভাগনিজামাই কলকাতায় আছেন। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সাজুকে মৃত অবস্থায় দেখেছেন। মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ হয়েছে।’

সাহেব সরদার আরও বলেন, ‘মরদেহ দেশে আনার জন্য ময়নাতদন্তসংক্রান্ত কিছু প্রক্রিয়া আছে বলে বলা হয়েছে। এখন দূরে থেকে তো কিছু করার নেই। আমরা অপেক্ষা করছি, কখন মরদেহ বুঝে পাব। ছোট ভাইয়ের মৃত্যু খুবই কষ্টের।’

সাজুর প্রতিবেশী রিয়াজুল ইসলাম। তাঁদের বাড়ি পাশাপাশি। সাজুর সঙ্গে তাঁর বন্ধুর মতো সম্পর্ক ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাজু সব সময় আমাদের সঙ্গে থাকতেন। এমন একজন মানুষ এভাবে মারা গেছেন, এটা বিশ্বাস করার মতো নয়।’

অন্যদিকে তারালী ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামে রেবতী সরকারের বাড়িতেও একই চিত্র। আজ সকালে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ঘর তালাবদ্ধ। পাশের বাড়িতে কয়েকজন স্বজন মন খারাপ করে বসে আছেন। তাঁদের একজন তপন সরকার। তিনি বলেন, রেবতী তাঁর দাদার স্ত্রী। চিকিৎসার জন্য প্রায় ১০ দিন আগে তিনি ভারতে গিয়েছিলেন। কলকাতায় ছিলেন। শনিবার তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল।

তপন সরকার বলেন, ‘বুধবার রাতে জানতে পারি, হোটেলে আগুন লেগে তিনি মারা গেছেন। এর পর থেকে দাদার (রেবতীর স্বামী ভবেশ সরকার) সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারছি না। রাতে সর্বশেষ কথা হলে তিনি শুধু বলেছিলেন, “তোর বউদি মারা গেছে। আমি বাংলাদেশে আছি।” এর পর থেকে তাঁর ফোনও বন্ধ। এখন দাদার ছেলে অনিক সরকার উত্তরাখন্ড থেকে ট্রেনে করে কলকাতায় আসছে।’

রেবতী ও ভবেশের দুই সন্তান। ছেলে অনিক সরকার স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে এবং মেয়ে ত্রিশা সরকার দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ছেন।

দুই পরিবারের স্বজনেরা জানান, মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁরা সরকারি পর্যায়ের যোগাযোগের অপেক্ষায় আছেন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে—এমনটাই আশা তাঁদের।

কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক আকন্দ প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল দিনে আমরা পাঁচজন বাংলাদেশির মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করেছিলাম। রাতে আরও দুজন, সাতক্ষীরার বাসিন্দার মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। উপহাইকমিশনের পক্ষ থেকে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত ও দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আশা করছি, আজই মরদেহগুলো দেশে পাঠানো সম্ভব হবে। এ বিষয়ে ভারত সরকারও আমাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করছে।’

গত মঙ্গলবার রাতে কলকাতায় নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ নয়জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশি সাতজন। বাকি পাঁচজন হলেন কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক এবং আজকের পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, ছেলে শর্ণশীষ দত্ত ও শ্বশুর আকরাম হোসেন এবং ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের ব্যবসায়ী আহম্মেদ বাবু।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ