শাহজাদপুর সংবাদ

কলকাতায় খাদ্য সুরক্ষা অভিযান, ৪০ রেস্তোরাঁর লাইসেন্স স্থগিত

৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১২:৩৭ PM

কলকাতায় খাদ্য সুরক্ষা অভিযান, ৪০ রেস্তোরাঁর লাইসেন্স স্থগিত

ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে ১ সেপ্টেম্বর থেকে কলকাতায় শুরু হওয়া খাদ্য সুরক্ষা অভিযান গতকাল মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। সপ্তাহব্যাপী এ অভিযানে কলকাতার বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান, মিষ্টির দোকান ও বেকারিতে পচা ও বাসি খাবার, পচা মাছ, মাংস, ছত্রাক ধরা ছানা-পনিরসহ বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়েছে। কিছু খাবারে নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর কৃত্রিম রং ব্যবহারেরও প্রমাণ মিলেছে।

খাদ্যবিধি না মানার অভিযোগে কলকাতার ৪০টি রেস্তোরাঁর লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছে কলকাতা পৌর করপোরেশন।

অভিযানে রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তা ও কলকাতা পৌর করপোরেশনের কর্মকর্তারা অংশ নেন। কলকাতার বিভিন্ন শপিং মলের ফুড কোর্টেও অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে সাউথ সিটি মল, স্টার মল ও মেট্রোপলিস মলের ফুড কোর্ট উল্লেখযোগ্য।

লাইসেন্স স্থগিত হওয়া ৪০টি রেস্তোরাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ডন জিওভানিস, করিমস, মিস্টিমুখ, আল সালান, সিমলা ফুড, জেপটো লিমিটেড, ব্রজরাজ, ডেন জং কিচেন, সোফিয়া হোটেল, গঙ্গা, বিরিয়ানি কর্নার, শম্ভু অয়েল মিল, রয়েল বেঙ্গল টাইগার হসপিটালিটি, এশিয়া হাউস, দাদা বৌদি হোটেল, টৌরাশিয়া চাট, মেরাকি বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারি, গিরিশচন্দ্র দে অ্যান্ড বেকারি, শ্রীকৃষ্ণ সুইটস, বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক সুইটস, মাতৃ মিষ্টান্ন ভান্ডার, শীতলা মিষ্টান্ন ভান্ডার, মিঠাই ভান্ডার ও শক্তি মিষ্টান্ন ভান্ডার।

এদিকে কলকাতা পৌর করপোরেশন শহরের ৯১৯টি গেস্ট হাউস বন্ধ করে দেওয়ার সুপারিশ করেছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও গেস্ট হাউস পরিচালনার নিয়ম না মানার কারণে এ সুপারিশ করা হয়েছে। তবে অভিযানে ৪১টি গেস্ট হাউস নির্ধারিত মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়েছে।

কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজন বাংলাদেশি পর্যটকের মৃত্যুর পর গেস্ট হাউস ও হোটেলগুলোর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে নতুন করে তৎপর হয় কলকাতা পৌর করপোরেশন। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন গেস্ট হাউসে তদন্ত শুরু করা হয়।

ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহের উদ্বোধন হয়েছিল ১ সেপ্টেম্বর কলকাতার নিউমার্কেট (হগ মার্কেট) এলাকায়। সপ্তাহ শেষে কলকাতা পৌর করপোরেশনের প্রশাসক স্মিতা পান্ডে বলেন, এ কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া গতকাল বলেছেন, আগের সরকার খাদ্য সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি। বর্তমান সরকার খাদ্যের মান ও নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো আপস করবে না। জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এবার খাবার পানির মানও খতিয়ে দেখা হবে।

রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যবাসীকে সচেতন করার পাশাপাশি খাবারের মান নিশ্চিত করতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। খাদ্যসামগ্রীতে ভেজাল, নিষিদ্ধ ও কৃত্রিম রং ব্যবহার করা যাবে না। ভুয়া লেবেল লাগিয়ে ফ্রিজে খাদ্য সংরক্ষণের বিষয়টিও বরদাশত করা হবে না।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ