শাহজাদপুর সংবাদ

এক ঘোড়ার রেসে সেই বায়ার্ন-রাজত্ব

১২ আগস্ট, ২০২৬ এ ১১:০৭ AM

এক ঘোড়ার রেসে সেই বায়ার্ন-রাজত্ব

বুন্দেসলিগার সব গল্পই আসলে শুরু হয় বায়ার্ন মিউনিখকে দিয়ে, শেষও হয় বায়ার্নের উৎসবে। বর্তমান চ্যাম্পিয়নও তারা, সর্বশেষ ১৪ মৌসুমে ১৩ বারই লিগের ট্রফি গেছে বায়ার্নের ঘরে। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে এক ঘোড়ার রেস যদি কোনোটা থেকে থাকে, সেটা আসলে বুন্দেসলিগাই। এবারও এই ধারার ব্যতিক্রম হবে বলে মনে হয় না।

গত মৌসুমে চার ম্যাচ হাতে রেখেই শিরোপা নিশ্চিত করে ফেলেছিল বায়ার্ন। দলের ১২২ গোলের ৩৬টি একাই করেছিলেন হ্যারি কেইন। কিন্তু একচ্ছত্র আধিপত্যের আবার নিজস্ব একটা চাপ থাকে, যা অজান্তেই চেপে বসে কাঁধে। বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানিও জানেন, মিউনিখে ট্রফি জেতা কোনো বিশেষ কৃতিত্ব নয়, তা শুধুই এক অলিখিত দায়িত্ব। বরং সেখানে এক পা পিছলে যাওয়া মানেই চারপাশ থেকে ভেসে আসা প্রশ্নবাণ। কোম্পানির দলের জন্য চ্যালেঞ্জটা তাই শুধু ট্রফি ধরে রাখা নয়। চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ঘরোয়া ফুটবলের ক্লান্তি সামলে নিজেদের ছন্দ ধরে রাখাই হবে বায়ার্নের আসল পরীক্ষা।

কেইনের শিকারি চোখ, মাইকেল ওলিসের গতি আর দূরদর্শী পাস এবং ড্রেসিংরুমের অভিজ্ঞতায় বায়ার্ন সেই পরীক্ষায় ভালোভাবেই উৎরে যাওয়ার কথা। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফুটবলের ব্যস্ত সূচির পর ক্লান্তি যদি চেপে বসে, আর শুরুর দিকেই হাতছাড়া হয় কয়েক পয়েন্ট, রাজত্ব টলে উঠতে সময় লাগবে না।

ব্যবধান কমিয়ে বায়ার্নকে টেনে নিচে নামাতে তৈরি বরুশিয়া ডর্টমুন্ড, বায়ার লেভারকুসেন ও লাইপজিগ। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটা হয়তো আসবে ডর্টমুন্ডের কাছ থেকে। তবে সেই সম্ভাবনাকে কতটা বাস্তবে রূপ দিতে পারবে ডর্টমুন্ড, সেটাই বড় প্রশ্ন। প্রাক্‌-মৌসুম প্রস্তুতি দেখে যা বোঝা গেছে, ডর্টমুন্ডের স্কোয়াড এখনো পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। দলবদলে আরও কিছু সংযোজন হতে পারে। বিশ্বকাপ পর্বের পর চোট আর খেলোয়াড়দের দেরিতে ফেরার কারণে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারকেও শুরু থেকে পাননি ডর্টমুন্ড কোচ নিকো কোভাচ। তবে ডর্টমুন্ডের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। তারা বড় ম্যাচ জিততে পারে, সমস্যা হয় মাঝামাঝি দলগুলোর বিপক্ষে। যেখানে একটু ঢিল, একটু ভুলে পয়েন্ট হারানোর অভ্য্যাস আছে দলটার।

অন্যদিকে লেভারকুসেন এখন আর আগের মতো ক্ষণস্থায়ী কোনো চমক নয়, এখন ওদের জার্মানির প্রতিষ্ঠিত ফুটবল শক্তিই বলা যায়। সর্বশেষ ১৪ মৌসুমে বায়ার্নের বাইরে একমাত্র ওরাই একবার চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছে। তবে এখন তো আর জাবি আলোনসো নেই, ডাগআউটে কার্সেল মার্তিনেজ নভেল। লেভারকুসেনের সবচেয়ে বড় শক্তি ওদের ফুটবল কাঠামো। বেশ শক্ত। আবার ওদের খেলার ধরনের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারে এমন খেলোয়াড় খুঁজে বের করতেও লেভারকুসেনের জুড়ি নেই।

প্রায় একই রকম প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামবে লাইপজিগ। প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলার গতি ও ধার দুটোই আছে তাদের। কিন্তু পুরো মৌসুম ধরে শিরোপার দাবিদার হিসেবে টিকে থাকার মতো ধারাবাহিকতা তাদের মধ্যে খুব একটা দেখা যায়নি। বায়ার্ন কিংবা ডর্টমুন্ডের পয়েন্ট কেড়ে নিয়ে শিরোপা লড়াই কিছুটা জমিয়ে তোলার সামর্থ্য আছে লেভারকুসেন ও লাইপজিগের। কিন্তু তারা হয়তো নিজেরা শিরোপার দাবিদার হয়ে উঠতে পারবে না।

জার্মান দলগুলো মূলত হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলে, দ্রুত বল সামনে বাড়ায় এবং আক্রমণে অনেক ফুটবলার তুলে দেয়। দেখার জন্য এটা বেশ ভালো। তবে এতে রক্ষণে জায়গা তৈরি হয়, যা কাউন্টার অ্যাটাকের জন্য উন্মুক্ত করে দেয় পথ। জার্মান ফুটবলের বড় আকর্ষণ এর গোলবন্যা আর সমর্থকদের উন্মাদনা। গত ২০২৫-২৬ মৌসুমে ২৯৭টি ম্যাচে হয়েছিল ৯৫৭টি গোল। ম্যাচপ্রতি গোল ছিল ৩টির বেশি।

এই আক্রমণাত্মক ধরন নতুন মৌসুমেও থাকবে। গোল হবে। গ্যালারি গর্জে উঠবে। হঠাৎ হঠাৎ ম্যাচ উল্টে যাবে চোখের সামনে। বায়ার্নের সামনে আবারও সবাই দাঁড়াবে। কেউ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে, কেউ ছায়া হয়ে পাশে থাকবে, কেউ হয়তো এক-দুই সপ্তাহের জন্য শিরোপার স্বপ্ন দেখবেও। কিন্তু আগামী বছর মে মাসের কোনো এক সপ্তাহে হয়তো আবার শিরোপা-উৎসব মিউনিখেই হবে।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ