শাহজাদপুর সংবাদ

এই নিন ব্ল্যাংক চেক, যত টাকা চান লিখুন...

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৪:০০ PM

এই নিন ব্ল্যাংক চেক, যত টাকা চান লিখুন...

‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর ২’ মুক্তির পর রাতারাতি বদলে গিয়েছিল নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকীর জীবন। বহু বছর ধরে ছোট চরিত্রে অভিনয়, অপেক্ষা আর অনিশ্চয়তার পর হঠাৎ করেই তিনি হয়ে উঠলেন আলোচিত অভিনেতা। পরিচালক অনুরাগ কশ্যপের ছবিতে ফয়জল খানের চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের নজর কাড়ে। এরপর তাঁর সামনে খুলে যায় বলিউডের বড় দরজা। এতটাই যে একসময় তাঁর টেবিলে জমেছিল প্রায় ২০০টি চিত্রনাট্য, সঙ্গে ছিল ‘ব্ল্যাংক চেক’—ইচ্ছেমতো পারিশ্রমিক লেখার সুযোগ।

কিন্তু নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকী সেসব প্রস্তাবের একটিও গ্রহণ করেননি।সম্প্রতি এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সে সময়ের কথা স্মরণ করেছেন নওয়াজুদ্দিন। তিনি জানান, ‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর ২’ মুক্তির পরই প্রথমবার নিজেকে তারকা বলে মনে হয়েছিল তাঁর। অভিনেতার ভাষায়, ‘ছবিটি মুক্তির পর অন্তত ২০০টি চিত্রনাট্য পেয়েছিলাম। আমার টেবিলে ব্ল্যাংক চেক পড়ে থাকত। লোকজন বলত, “এই নিন চিত্রনাট্য, আর এই নিন ব্ল্যাংক চেক। আপনি যত টাকা চান লিখুন, আপনার যে তারিখগুলো ফাঁকা আছে, সেগুলো দিন।”’

বলিউডে এমন প্রস্তাব যেকোনো অভিনেতার জন্যই লোভনীয়। বিশেষ করে এমন একজন অভিনেতার কাছে, যিনি বছরের পর বছর কাজের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু নওয়াজুদ্দিন তখন অন্য সিদ্ধান্ত নেন। তিনি কোনো চিত্রনাট্যই পছন্দ করেননি। তাই জনপ্রিয়তার ঢেউয়ে ভেসে একের পর এক সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার বদলে অপেক্ষা করার পথ বেছে নেন।

‘আমি ওই চিত্রনাট্যগুলোর একটিও নিইনি। কারণ, কোনোটিই আমার ভালো লাগেনি। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সঠিক চরিত্রের জন্য অপেক্ষা করব। বছরের পর বছর কাজের অপেক্ষায় অভ্যস্ত ছিলাম। তাই ভেবেছিলাম, তাড়াহুড়া করে কোনো কিছুতে সই করার চেয়ে আরও দু-তিন বছর অপেক্ষা করাই ভালো,’ বলেন অভিনেতা।

নওয়াজুদ্দিনের এ সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল দীর্ঘ সংগ্রামের অভিজ্ঞতা। মুম্বাইয়ে অভিনয়ের সুযোগ পেতে তাঁকে অনেক বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। ছোট চরিত্র থেকে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’, ‘পিপলি লাইভ’, ‘কাহানি’, ‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর’সহ একাধিক ছবিতে অভিনয়ের পর তিনি আলাদা পরিচিতি পেতে শুরু করেন। তবে ‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর ২’-এর ফয়জল খান চরিত্রটিই তাঁকে ব্যাপক দর্শকপরিচিতি এনে দেয়।

ছবিতে শুরুতে ফয়জল ছিলেন অনেকটাই নির্বিকার, লক্ষ্যহীন এক তরুণ। কিন্তু পারিবারিক সংঘাত, ব্যক্তিগত ক্ষতি ও বিশ্বাসঘাতকতার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে বদলে যায় তাঁর চরিত্র। একসময় সেই শান্ত স্বভাবের মানুষটিই হয়ে ওঠেন নির্মম গ্যাংস্টার। চরিত্রটির এই রূপান্তর নওয়াজুদ্দিন এমন তীব্রতা ও সংযমের সঙ্গে পর্দায় তুলে ধরেন যে ফয়জল হয়ে ওঠে ছবিটির অন্যতম স্মরণীয় চরিত্র।

২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর ২’ ছিল অনুরাগ কশ্যপের দুই পর্বের গ্যাংস্টার সিনেমার দ্বিতীয় অধ্যায়। ধানবাদের অপরাধজগতের পটভূমিতে খান ও কুরেশি পরিবারের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব, প্রতিশোধ ও ক্ষমতার লড়াইকে কেন্দ্র করে নির্মিত ছবিটি মুক্তির পর প্রশংসিত হয় গল্প, সংলাপ, অভিনয় ও নির্মাণশৈলীর জন্য। আর নওয়াজুদ্দিনের ফয়জল চরিত্রটি তাঁকে মূলধারার দর্শকের কাছে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।

স্বাধীনধারার সিনেমা থেকে মূলধারার বাণিজ্যিক ছবি—দুই জায়গাতেই নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন নওয়াজুদ্দিন। চরিত্রের ধরন নিয়ে তাঁর এই বাছাইয়ের কারণেই হয়তো তিনি বলিউডের প্রচলিত নায়কদের ভিড়ে আলাদা হয়ে উঠেছেন। তাঁর অভিনয়জীবনে তাই ‘তারকা’ হওয়ার চেয়ে ভালো চরিত্র পাওয়াটাই বরাবর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থেকেছে।

এখনো সে পথেই হাঁটছেন নওয়াজুদ্দিন। গত ৮ মে মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত ‘ম্যায় অ্যাক্টর নেহি হুঁ’। ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হলেও সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র থেকে নেতিবাচক।

সামনে আরও বড় কাজ নিয়ে ফিরছেন নওয়াজুদ্দিন। ‘তুম্বাড় ২’-এ আলিয়া ভাটের সঙ্গে দেখা যাবে তাঁকে। ২০১৮ সালের আলোচিত হরর সিনেমা ‘তুম্বাড়’-এর এই সিক্যুয়েল আগের ছবির তুলনায় অনেক বড় পরিসরে নির্মিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে জানা গেছে, মুম্বাইয়ে ৭ থেকে ৮ একর জায়গাজুড়ে তৈরি হচ্ছে বিশাল সেট, যেখানে একটি পুরো শহরের আদল নির্মাণ করা হবে। সিনেমাটির বাজেট প্রায় ১০০ কোটি রুপি। পরিচালনা করছেন আদেশ প্রসাদ। ২০২৭ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা রয়েছে ছবিটির।

এনডিটিভি অবলম্বনে

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ