শাহজাদপুর সংবাদ

এআই কনটেন্ট শনাক্তে গুগলের নতুন টুল, ব্যবহার করবেন যেভাবে

৯ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৯:২৪ AM

এআই কনটেন্ট শনাক্তে গুগলের নতুন টুল, ব্যবহার করবেন যেভাবে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক জেনারেটিভ টুলগুলোর দ্রুত অগ্রগতিতে সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টারনেটে ছবি, ভিডিও কিংবা অডিও, কোনটি বাস্তব আর কোনটি এআই দিয়ে তৈরি, তা আলাদা করে শনাক্ত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত কনটেন্ট শনাক্ত করার জন্য নিজেদের ‘সিন্থআইডি ডিটেক্টর’ টুল সবার জন্য উন্মুক্ত করেছে গুগল। এতদিন টুলটির প্রাথমিক সংস্করণ শুধু সাংবাদিক, গবেষক ও অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীদের ব্যবহারের জন্য সীমিত থাকলেও বর্তমানে এটি সকলেই ব্যবহার করতে পারছে।

নতুন এই ওয়েবভিত্তিক টুলের মাধ্যমে ছবি, ভিডিও ও অডিও ফাইল পরীক্ষা করা যাবে। কোনো কনটেন্টে গুগল বা অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘সিন্থআইডি ওয়াটারমার্ক’ থাকলে সেটি শনাক্ত করে ব্যবহারকারীকে কনটেন্টটির সত্যতা যাচাই করে দেবে টুলটি। সিন্থআইডি ওয়াটারমার্ক হলো গুগলের তৈরি অদৃশ্য ডিজিটাল শনাক্তকারী চিহ্ন, যা এআই জেনারেটেড ছবি, ভিডিও, অডিও বা টেক্সটের মধ্যে এমনভাবে যুক্ত করা হয় যেন মানুষের চোখে তা দেখা না যায়। তবে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে তা শনাক্ত করা যায়। সাধারণ সম্পাদনা, যেমন ছবি ক্রপ করা, রং বা ফিল্টার পরিবর্তন কিংবা কমপ্রেশন করার পরও এটি শনাক্ত করা যায়। গুগলের হিসাবে, এখন পর্যন্ত তাদের এআই ব্যবস্থার মাধ্যমে তৈরি ১৮০ বিলিয়নের বেশি ছবি ও ভিডিও এবং প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার বছর প্লেব্যাক-টাইমের সমপরিমাণ অডিওতে সিন্থআইডি ওয়াটারমার্ক যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে গুগল, ওপেনএআই, এনভিডিয়া ও কাকাওয়ের এআই সিস্টেমে তৈরি কনটেন্ট শনাক্ত করতে সক্ষম এই টুলটি। অ্যাপলের এআই দিয়ে তৈরি ও সম্পাদিত ছবি শনাক্ত করার সুবিধাও খুব শীঘ্রই যুক্ত হবে বলে জানিয়েছে গুগল।

টুলটি ব্যবহার করতে প্রথমে https://synthid.com/ ওয়েবসাইটে গিয়ে গুগল, ওপেনএআই বা অ্যাপল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করতে হবে। এরপর যে ছবি, ভিডিও বা অডিও ফাইলটি পরীক্ষা করতে চান, সেটি আপলোড করলেই টুলটি ফাইলের মধ্যে সিন্থআইডি ওয়াটারমার্ক রয়েছে কি না ,তা পরীক্ষা করবে। ওয়াটারমার্ক শনাক্ত হলে কনটেন্টটি গুগল বা সমর্থিত অন্য কোনো এআই ব্যবস্থার মাধ্যমে তৈরি বা সম্পাদিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ফলাফল দেখাবে। প্রতিদিন একজন ব্যবহারকারী আনুমানিক ১০টি ছবি, ভিডিও ও অডিও পরীক্ষা করতে পারবেন।

তবে টুলটি সব ধরনের এআই কনটেন্ট শনাক্ত করতে পারবে না। কারণ সব এআই প্রতিষ্ঠান একই ধরনের ওয়াটারমার্ক প্রযুক্তি ব্যবহার করে না। আবার কিছু ক্ষেত্রে বিভিন্ন সম্পাদনা ও নানাবিধ কৌশল অবলম্বনে কনটেন্টে থাকা ওয়াটারমার্ক মুছে ফেলা সম্ভব। পাশাপাশি কোনো ছবি বা ভিডিও পুরোপুরি এআই দিয়ে তৈরি হয়েছে, নাকি শুধু আংশিকভাবে সম্পাদনা করা হয়েছে, ডিটেক্টর সেটিও আলাদাভাবে জানাতে পারে না। ফলে কোনো কনটেন্টকে শুধু এই টুলের ফলাফলের ভিত্তিতে পুরোপুরি আসল বা নকল হিসেবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।

গুগল জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও এআই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে সিন্থআইডি সমর্থিত কনটেন্টের পরিমাণ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এর ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট যাচাইয়ের জন্য আলাদা আলাদা টুল ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কমবে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

সম্পর্কিত সংবাদ