শাহজাদপুর সংবাদ

ইয়েমেনের সানা ও তাইজে বিমান হামলা, বিকল্প পথে তেল রপ্তানির বার্তা সৌদির

১২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১২:০৬ PM

ইয়েমেনের সানা ও তাইজে বিমান হামলা, বিকল্প পথে তেল রপ্তানির বার্তা সৌদির

ইয়েমেনের বিভিন্ন রণাঙ্গনে সৌদি আরব–সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। এর মধ্যেই দেশটির সানা ও তেইজে বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

ইয়েমেনের হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন সংবাদ সংস্থা সাবা জানিয়েছে, সানার হামদান এলাকায় এবং তাইজের হাইফান এলাকার আল-জুরবি সড়কে গতকাল রোববার বিমান হামলা হয়েছে। এসব হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ইরান যুদ্ধের মধ্যেই সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যকার এ লড়াই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে আরও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী বলেছেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা ও জ্বালানির বাজারে অস্থিরতার মধ্যেও বিশ্ববাজারে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রস্তুত তাঁর দেশ। এ জন্য বিকল্প রপ্তানির পথ হিসেবে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের গুরুত্বও তুলে ধরেছেন তিনি।

তাইজে তীব্র লড়াই

হাইফান এলাকায় বিমান হামলার পাশাপাশি তাইজের অন্যান্য রণাঙ্গনে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে।

আল–জাজিরার প্রতিবেদক মাহা আলীর তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী তাইজ শহরের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে হুতিদের অবস্থান ও সেনাসমাবেশ লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। আল কাসর রণাঙ্গনে তিনটি বিমান হামলা হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উসাইফিরাহ এলাকাতেও হামলা চালানো হয়েছে।

এসব অবস্থান থেকেই গত শনিবার হুতিরা সরকারি বাহিনীর বিভিন্ন অবস্থানে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা ওই হামলায় বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। হুতিরা তীব্র গোলাবর্ষণও করে।

এদিকে আল শাকাব ও আল আকরুদ রণাঙ্গনে সরকারি বাহিনীর জন্য আরও সেনা ও রসদ পৌঁছানোর খবর পাওয়া গেছে। তাইজ শহরের দক্ষিণ, পশ্চিমাঞ্চলসহ আশপাশের বিভিন্ন রণাঙ্গনে লড়াই অব্যাহত রয়েছে।

পশ্চিম উপকূল এবং ধুবাব ও আল ওয়াজিয়াহতে সরকারি বাহিনীর অভিযান চলছে। উপকূলীয় এলাকা পেরিয়ে পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতেও অভিযান চালানো হচ্ছে।

সংবাদ সংস্থা সাবা জানিয়েছে, তাইজের সালাহ এলাকায় একটি বাড়িতে হামলায় তিন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এ হামলার জন্য সৌদি বাহিনীকে দায়ী করেছে তারা। গতকাল সানায় আরেকটি হামলায় এক শিশু নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, ২০২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর ইয়েমেনে অন্তত ২৭২ জন নিহত হয়েছেন।

ইয়েমেনে লড়াইয়ের পাশাপাশি হুতিদের অব্যাহত হামলার মুখে আছে সৌদি আরব। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারা গতকাল হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির লক্ষ্য ছিল সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইত।

এর আগে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ কাছের শহর আভায় সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছিল।

বিকল্প পথে তেল রপ্তানির বার্তা সৌদির

আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে বিশ্ববাজারে সৌদি আরবের জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখার সক্ষমতার কথা তুলে ধরেছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান আল সৌদ।

গতকাল রিয়াদে অনুষ্ঠিত ১৭তম আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিনি বলেন, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার সক্ষমতা সৌদি আরব প্রমাণ করেছে। বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশটি বিনিয়োগ ও প্রস্তুতি অব্যাহত রাখবে।

জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি যা-ই হোক, সৌদি আরব তার অঙ্গীকার পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী দেশটির পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের কথা উল্লেখ করেন।

প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান আল সৌদ বলেন, এই পাইপলাইন জ্বালানিব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সৌদি আরবের দূরদর্শিতার প্রতিফলন। এর মাধ্যমে লোহিত সাগরের তীরে ইয়ানবু বন্দরের পথ ব্যবহার করে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ