শাহজাদপুর সংবাদ

আট বছর পর মুখ খুললেন খাজা

৭ নভেম্বর, ২০২৬ এ ১২:৩৮ PM

আট বছর পর মুখ খুললেন খাজা

২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটকে নাড়িয়ে দেওয়া স্যান্ডপেপারগেট কাণ্ডে শুধু স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার ও ক্যামেরন ব্যানক্রফট নন, পুরো দলই সবকিছু জানত। এমন বিস্ফোরক দাবি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার উসমান খাজা। তার দাবি, কেপটাউন টেস্টের আগের ম্যাচ পোর্ট এলিজাবেথেও বল টেম্পারিংয়ের কৌশল প্রয়োগ করেছিল অস্ট্রেলিয়া।

ওই কাণ্ডে অধিনায়ক স্মিথ, সহ-অধিনায়ক ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তদন্তে বলা হয়েছিল, বল টেম্পারিংয়ের পরিকল্পনা সম্পর্কে আগে থেকে জানতেন শুধু এই তিনজন। স্মিথকে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ওয়ার্নারও এক বছরের নিষেধাজ্ঞা পান এবং সব ধরনের নেতৃত্বের দায়িত্ব থেকে বাদ পড়েন। ব্যানক্রফটকে নিষিদ্ধ করা হয় ৯ মাসের জন্য।

তবে চলতি বছর ৮৮ টেস্ট খেলে অবসর নেওয়া খাজা সিডনি মর্নিং হেরাল্ডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, দলের সবাই বিষয়টি জানতেন। আগামী সপ্তাহে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে তার আত্মজীবনী। সেখানে স্যান্ডপেপারগেট কাণ্ড নিয়ে একটি অধ্যায়ও রয়েছে।

খাজা বলেছেন, ‘আমরা সবাই জানতাম। শুধু ব্যাটাররা নয়, শুধু বোলাররা নয়, শুধু স্টাফরাও নয়। আমরা সবাই।’

পেসার প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়ন ২০২১ সালে প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না।

খাজার দাবি, কেপটাউন টেস্টের পর ড্রেসিংরুমে তিনি দলের সবাইকে সম্মিলিতভাবে দায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার মতে, শুধু ওয়ার্নার, স্মিথ ও ব্যানক্রফটকে বলির পাঁঠা বানানো উচিত ছিল না।

খাজা বলেন, ‘আদর্শ পরিস্থিতিতে আমি এটা করতে চাই না। সত্যিটা সামনে এসে বলার মানুষটিও হতে চাই না। কিন্তু সমস্যা হলো, আমার সত্যিই মনে হয়েছিল আট বছর পর এত দিনে সত্যটা প্রকাশ্যে আসবে। হয়তো ভেবেছিলাম ডেভি (ওয়ার্নার) বিষয়টি প্রকাশ করবে, কিংবা অন্য কেউ এ নিয়ে আরও কথা বলবে। কখনো ভাবিনি শেষ পর্যন্ত আমাকে এভাবে বলতে হবে।’

এদিকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের আগের তদন্তের ফল নিয়ে তারা এখনো সন্তুষ্ট। তবে নতুন কোনো প্রমাণ সামনে এলে তা বিবেচনা করতে প্রস্তুত সংস্থাটি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘২০১৮ সালের কেপটাউন টেস্টের পর গত আট বছরে এ নিয়ে অনেক জল্পনা হয়েছে। গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ চলাকালেও সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।’

আরও বলা হয়, ‘এ সময়ে প্রাসঙ্গিক যেকোনো তথ্য উপস্থাপনের সুযোগ ছিল এবং এখনো তা রয়েছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কাছে এ পর্যন্ত উপস্থাপিত সব প্রাসঙ্গিক তথ্য যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। আমাদের সততা ও শৃঙ্খলাবিষয়ক তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা এখনো সন্তুষ্ট।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

সম্পর্কিত সংবাদ