আইসিসির আচরণে ক্ষুব্ধ সহযোগী দেশগুলো

১০ আগস্ট, ২০২৬ এ ৮:৫২ PM

আইসিসির আচরণে ক্ষুব্ধ সহযোগী দেশগুলো

২০২৭ পুরুষ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কাঠামোর হঠাৎ পরিবর্তনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ওপর চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ক্রিকেট স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট বোর্ড (কেএনসিবি)। মূল টুর্নামেন্ট শুরু হতে ১৮ মাসেরও কম সময় বাকি থাকতে বিশ্বকাপের কাঠামোর এই পরিবর্তন আনার কড়া সমালোচনা করেছে সহযোগী সদস্যদেশ দুটি।

গত মাসে আইসিসি ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ‘সুপার সিরিজ’ নামে নতুন একটি পর্ব যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই ফরম্যাটে বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া ১৪ দলের মধ্যে র‍্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে ১২তম, ১৩তম এবং ১৪তম তিনটি দল সুপার সিরিজে অংশ নেবে। সিঙ্গেল লিগ পদ্ধতির সুপার সিরিজ থেকে কেবল একটি দল দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার সুযোগ পাবে, যেখানে ১২টি দল দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। যার অর্থ দুটি দল মাত্র ২টি ম্যাচ খেলেই বিদায় নেবে বিশ্বকাপ থেকে।

ফরম্যাট পরিবর্তনের ঘোষণার পর ক্রিকেট স্কটল্যান্ড, কেএনসিবি এবং অন্যান্য সহযোগী সদস্যদেশ আইসিসির সঙ্গে দুটি বৈঠক করে। এসব বৈঠকে ফরম্যাট পরিবর্তনের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যার পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা দাবি করা হয়েছিল।

তবে সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস জানিয়েছে, দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বৈঠকের পর আইসিসির পক্ষ থেকে আর কোনো জবাব বা যোগাযোগ করা হয়নি। আইসিসির এমন আচরণকে ‘হতাশাজনক ও অসম্মানজনক’ বলে অভিহিত করেছে দেশ দুটি।

যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড লিখেছে, ‘এই পরিবর্তনগুলো অ্যাসোসিয়েট সদস্য ক্রিকেটের জন্য একটি বড় ধাক্কা এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের প্রসারে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। যখন ক্রিকেট তার পরিধি বাড়াতে, নতুন দর্শক টানতে এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে, ঠিক তখন উদীয়মান দেশগুলোর সুযোগ কমিয়ে দেওয়া একেবারেই ভুল বার্তা দেয়।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা আইসিসি এবং অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে বিশ্ব ক্রিকেটের উন্নয়নে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এসব পরিবর্তনের প্রভাব এবং যে প্রক্রিয়ায় এগুলো আনা হয়েছে, তা নিয়ে আমাদের গভীর উদ্বেগ রয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণের আগে পর্যাপ্ত আলোচনার প্রয়োজন ছিল।’

এর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সংগঠন ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউসিএ) মাধ্যমে গত মাসে একই বিষয়ে নিজেদের অসন্তোষের কথা জানিয়েছিলেন নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ডের অধিনায়কেরা।

বাছাইপর্ব চলাকালীন কাঠামোগত পরিবর্তন আনায় অ্যাসোসিয়েট দলগুলোর পরিকল্পনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘টুর্নামেন্টের ১৮ মাসেরও কম সময় বাকি থাকতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। বাছাইচক্রের মাঝামাঝি সময়ে কাঠামো পরিবর্তন করলে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, যা সীমিত সম্পদের ওপর চলা সংস্থাগুলোর জন্য অতিরিক্ত পরিচালনাগত ও আর্থিক চাপ তৈরি করে।’

বর্তমানে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ লিগ-২–এর খেলা প্রায় শেষের দিকে। সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্র, স্কটল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও ওমান সরাসরি ওয়ানডে বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ারে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে। আর পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা চার দল নামিবিয়া, কানাডা, নেপাল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে খেলতে হবে আট দলের ‘বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার প্লে-অফে’। সেখান থেকে শীর্ষ চার দল ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে হতে যাওয়া মূল গ্লোবাল কোয়ালিফায়ারে খেলার সুযোগ পাবে।

বিবৃতিতে আইসিসিকে বিশ্ব ক্রিকেটের বৃহৎ স্বার্থের কথা চিন্তা করে আবার আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে শেষ অংশে বলা হয়, ‘বিশ্বকাপের মঞ্চে অ্যাসোসিয়েট দেশগুলো যখন টেস্ট খেলুড়ে পূর্ণ সদস্যদের হারায়, তা ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্তের জন্ম দেয়। এই পারফরম্যান্সগুলো প্রমাণ করে যে সাফল্য মাঠের লড়াইয়েই অর্জিত হয়। আমাদের খেলোয়াড়েরা সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়েও কঠোর পরিশ্রম করে, তারা তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন ও সম্মান পাওয়ার যোগ্য।’

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ