অডিশন থেকে ফেরার পথে কেন কাঁদতে কাঁদতে কানের দুল কিনতেন এই অভিনেত্রী
১৬ আগস্ট, ২০২৬ এ ২:৩০ PM

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে কখনো দেখা গেছে ব্রডওয়ের মঞ্চে, কখনো কমেডি সিরিজে, আবার কখনো অন্ধকার ও জটিল চরিত্রে। প্রতিটি চরিত্রই যেন ক্যারিয়ারের নতুন দরজা খুলে দেয়। চরিত্রগুলো ক্যারিয়ারকে আরও বেশি তুঙ্গে নিয়ে যায় অভিনেত্রী ক্রিস্টিন মিলিওটিকে। আজ তাঁর জন্মদিন। ১৯৮৫ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির চেরি হিলে জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রী ৪১ বছরে পা দিলেন।
অভিনয়ের টান শৈশবেছোটবেলা থেকেই সিনেমা ও সংগীতের প্রতি আকর্ষণ ছিল মিলিওটির। এক সাক্ষাৎকারে তিনি মজা করে বলেছেন, কখনো পশুচিকিৎসক, আবার কখনো ড্রাগন হতে চেয়েছেন। তবে সিনেমা ও সংগীতের কাছাকাছি থাকার ইচ্ছা তাঁর ছোটবেলা থেকেই ছিল। অভিনয় শেখার জন্য ভর্তি হন নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু এক বছর পরই পড়াশোনা ছেড়ে দেন। তাঁর কাছে তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা ঠিক মনে হচ্ছিল না; বরং মঞ্চে অভিনয়ের সুযোগ তাঁকে বেশি টানছিল।
২০ বছর আগে একদিনবিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় চাইছিলেন অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে। পরে একদিন একটি নাটকে অভিনয় করতে গিয়ে একজন এজেন্টের নজরে পড়েন। সেই এজেন্ট তাঁকে অডিশনে পাঠান। অডিশনের পর ২০০৬ সালে ‘দ্য সোপ্রানোস’-এ ছোট একটি চরিত্র পান। এটি ছিল তাঁর প্রথম বড় পেশাদার টেলিভিশন কাজ। কিন্তু সেই সাফল্যের পরও নিয়মিত কাজ পাওয়া সহজ ছিল না। ‘দ্য সোপ্রানোস’-এর পর প্রায় এক বছর কোনো অভিনয়ের কাজ পাননি। কেউই ডাকেনি। তখন নানা ধরনের ছোটখাটো কাজ করেছেন। কিন্তু বেশির ভাগই তাঁকে প্রত্যাখ্যান হতে হয়েছে, যা তাঁকে একসময় মানসিক ভাবে হতাশ করে দেয়।
প্রত্যাখ্যান আর কান্না ছিল নিত্যসঙ্গীঅভিনয়জীবনের শুরুতে অডিশনে বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন মিলিওটি। তাঁর নিজের ভাষায়, ‘অভিনয় পেশায় “রিজেকশন” বা প্রত্যাখ্যান অনেক কষ্টের। এটা কঠিন যাত্রা।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি এটাও বলেছিলেন, এক অডিশনে অনেক পরিশ্রম করেও কাজ না পেয়ে গাড়িতে পুরো রাস্তা কেঁদেছিলেন তিনি। পরে রাস্তার একটি দোকান থেকে নিজের জন্য একটি ছোট কানের দুল কিনেছিলেন। কাঁদতে কাঁদতে কানের দুল কেনার সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেছেন, ‘কখনো কখনো প্রত্যাখ্যানের কষ্ট সামলাতে নিজেকেই ছোটখাটো উপহার দেওয়া যেতে পারে।’আরেকটি অডিশনের ঘটনা তাঁর ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে। এক কাস্টিং ডিরেক্টর তাঁকে বলেছিলেন, অডিশনে গিয়ে অন্য কারও মতো হওয়ার চেষ্টা না করে নিজের মতো অভিনয় করতে। মিলিওটি জানিয়েছেন, সেই পরামর্শ তাঁর অডিশনের ধরনই বদলে দেয়।
ক্যারিয়ার বদলে যাওয়ার পালামঞ্চনাটক ও অফ-ব্রডওয়ে প্রযোজনায় কাজ করতে করতে ২০১১ সালে আসে ক্যারিয়ারে বড় সুযোগ ‘ওয়ান্স’ মিউজিক্যালে অভিনয়। চরিত্রটির জন্য তাঁকে পিয়ানো বাজাতে হতো। কিন্তু সমস্যা ছিল, তিনি তখন সংগীতের নোটই পড়তে পারতেন না। শেষ অডিশনের আগে মাত্র ১০ দিনে তাঁকে পিয়ানো শেখানো হয়। তিনি প্রতিদিন সাত থেকে দশ ঘণ্টা পর্যন্ত অনুশীলন করেন। শেষ পর্যন্ত চরিত্রটি পান। ‘ওয়ান্স’-এ অভিনয়ের জন্য তিনি টনি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন পান এবং অ্যালবামটি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জেতে।
‘হাউ আই মেট ইউর মাদার’-এ পরিচিতিসিরিজে তখনো আলোচিত হননি। ২০১৩ সালে ‘হাউ আই মেট ইউর মাদার’ সিরিজে ট্রেসি ম্যাককনেল বা ‘মাদার’ চরিত্রে অভিনয় করে হলিউডের বাইরের দর্শকের কাছেও ব্যাপক পরিচিতি পান মিলিওটি। দীর্ঘদিন ধরে সিরিজটিতে যে রহস্যময় ‘মা’ চরিত্রটির কথা বলা হচ্ছিল, শেষ পর্যন্ত সেই চরিত্রেই দেখা যায় তাঁকে। যা দর্শকদের জন্য আরও বেশি সারপ্রাইজিং ছিল। এরপর ‘দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট’, ‘ফার্গো’ এবং ‘ব্ল্যাক মিরর’-এর মতো আলোচিত সিনেমায় কাজের সুযোগ পান।
টার্নিং পয়েন্ট: ক্যারিয়ারের বাঁকবদল২০২০ সালের ‘পাম স্প্রিংস’ সিনেমায় অ্যান্ডি সামবার্গের সঙ্গে অভিনয় করেন মিলিওটি। সিনেমাটি সমালোচকদের প্রশংসা পায় এবং তাঁকে আরও বড় পরিসরের অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এরপর ‘মেড ফর লাভ’ ও ‘দ্য রিসোর্ট’–এর মতো কাজেও দেখা যায় তাঁকে।
ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মোড় আসে ২০২৪ সালে। সে বছর মুক্তি পাওয়া ‘দ্য পেঙ্গুইন’-এর সোফিয়া ফ্যালকোন চরিত্রটি তাঁর ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনে। চরিত্রটি একই সঙ্গে নির্মম, যন্ত্রণাদগ্ধ ও জটিল। মিলিওটির অভিনয়ে চরিত্রটি বিশ্বব্যাপী দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি পায়। মিলিওটি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই এমন একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ খুঁজছিলেন, যেখানে নিজের অভিনয়ের বিভিন্ন দিক দেখাতে পারবেন। ‘দ্য পেঙ্গুইন’ সেই সুযোগ এনে দেয়। এর ফলও এসেছে দ্রুত। ২০২৫ সালে ‘দ্য পেঙ্গুইন’-এর জন্য প্রাইমটাইম এমি অ্যাওয়ার্ডে লিমিটেড বা অ্যান্থলজি সিরিজে সেরা অভিনেত্রী হন তিনি। একই চরিত্রের জন্য ক্রিটিকস চয়েস অ্যাওয়ার্ডও জেতেন এবং গোল্ডেন গ্লোবের মনোনয়ন পান।
সাফল্য নিয়ে তাঁর দর্শনমিলিওটির কাছে সাফল্য শুধু জনপ্রিয়তা বা অর্থ নয়। এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তাঁর কাছে সাফল্যের অর্থ কী। উত্তরে তিনি বলেন, নিজের পছন্দমতো কাজ বেছে নেওয়ার সুযোগ এবং এমন মানুষের সঙ্গে কাজ করতে পারা, যাঁরা তাঁকে আরও ভালো করে তোলেন—এটাই সাফল্য। তাঁর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি—অভিনয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে অন্য কারও মতো হওয়ার চেষ্টা না করে নিজের পরিচয়কে গ্রহণ করতে হয়। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তিনি অডিশনে অন্যরা কী চাইছে, সেটি দেওয়ার চেষ্টা করতেন। পরে বুঝেছেন, নিজের স্বতন্ত্র ব্যাখ্যাই আসল।
কঠিন পথ পেরিয়ে এমির মঞ্চেএকসময় কুকুর হাঁটানোর কাজ করতেন। তারপরে ব্রডওয়েতে কাজ করেন। পরে ছোট টেলিভিশন চরিত্র থেকে ‘হাউ আই মেট ইউর মাদার’, আর সেখান থেকে ‘দ্য পেঙ্গুইন’-এর সোফিয়া ফ্যালকোনের চরিত্র। এই পুরো ২০ বছর তাঁর ক্যারিয়ার ছিল উত্থান–পতনে ভরা। এই যাত্রা বলে দেয়, মিলিওটির ক্যারিয়ার মূলত ধৈর্য আর প্রত্যাখ্যানকে জয় করার গল্প। একসময় যাঁকে অডিশনে বারবার ‘না’ শুনতে হয়েছে, তিনিই আজ এমি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর জন্মদিনে তাই সবচেয়ে বড় গল্পটি হয়তো কোনো পুরস্কার নয়; নিজের মতো করে টিকে থাকার গল্প। যে কারণে তিনি বারবার বলেন,‘নিজেকে অন্য সবার সঙ্গে তুলনা করা বন্ধ করো।’ একই সঙ্গে তাঁর কাছে সাফল্যের অর্থ, ‘নিজের পছন্দমতো কাজ বেছে নেওয়ার সুযোগ এবং এমন মানুষের সঙ্গে কাজ করা, যারা আমাকে আরও ভালো করে তোলে—এটাই সাফল্য।’
আইএমডিবি, ভ্যারাইটি, লস অ্যাঞ্জেলস টাইম, ব্যাকস্টেজ ও ভ্যানিটি ফেয়ার অবলম্বনে
সূত্র: প্রথম আলো
সম্পর্কিত সংবাদ
৯৭ বিলিয়ন ঘণ্টা ভিউ! ২০২৬ সালে নেটফ্লিক্সে সবচেয়ে বেশি দেখা ১০ সিনেমা কোনগুলো
১৬ আগস্ট, ২০২৬ এ ১১:৪৫ AM · প্রথম আলো
ডনের পর সামিরা ও আজিজকে গ্রেফতারের দাবি সালমান শাহ ভক্তদের
১৬ আগস্ট, ২০২৬ এ ১২:২১ AM · বাংলা ট্রিবিউন
