মোঃ শফিকুল ইসলাম ফারুক : নাব্যতা সংকটে উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর বুকে বিরাজ করছে ধু-ধু বালুর চর। নদীগুলোর বক্ষে যে টুকু পানি আছে তা দখলদারদের করায়াত্বে । বাসযোগ্য পানির অভাবে উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোতে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে প্রচুর পরিমানে ডিমওয়ালা দেশীয় প্রজাতির মা মাছ। ফলে মিঠা পানির দেশীয় প্রজাতির মাছের বংশ বৃদ্ধি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ‘মাছে ভাতে বাঙ্গালী’ কথাটি ধীরেধীরে কল্পবক্যে পরিনত হচ্ছে।উত্তরাঞ্চলের নদী,নালা,খাল-বীল শুকিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে দেখা দিয়েছে মাছের তীব্র আকাল। নাব্যতা হারিয়ে নয়তো শুকিয়ে যাওয়ায় এক সময়ের বিস্তৃত জলসীমা অবৈধ দখলদারদের করায়াত্ত। বর্তমানে যেটুকু দখলমুক্ত সেখানেও মাছের তীব্র আকাল। হাওর,বাওর,খাল-বীল এখন আর জেলেদের দখলে নেই। বিত্তশালীরা টাকা ও ক্ষমতার জোড়ে এগুলো লীজ নিয়ে নিয়েছে। ফলে জেলেরা হয়ে পড়ছে কর্মহীন। আর এখনো যারা এ পেশায় নিয়োজিত রয়েছে তারা উত্তরাঞ্চলের মৃতপ্রায় নদনদী থেকে দেশীয় প্রজাতির ডিমওয়ালা বড় মা মাছ নির্বিচারে নিধন করায় মাছের বংশবৃদ্ধি মারাত্বকভাবে বিঘ্ন হচ্ছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা রয়েছেন উদাসীন। এতে ভবিষতে দেশে মাছের তীব্র সংকটের আশংকা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞ মহল।
জানা গেছে,‘যমুনা,পদ্মা,করতোয়া,হুরাসাগর,বড়ালসহ এ অঞ্চলের নদনদীগুলোর প্রবাহমান অংশ শুকিয়ে এতটাই সংকীর্ণ,সংকুচিত হয়ে পড়েছে যে মাছের বাসযোগ্য পরিবেশ বিপন্ন ও বিপদসঙ্কুল হয়ে পড়েছে। বিরাজিত স্বল্প পরিধির জলসীমায় অল্প পরিমানে যেসব বৃহৎ দেশীয় প্রজাতির মা মাছ রয়েছে তাও নির্বিচারে নিধনের মহোৎসব চলছে। সরোজমিনে বাঘাবাড়ী বরাল নদীর দক্ষিণ পাড় এলাকায় জেলেদের জালে বৃহৎ ২টি ডিমওয়ালা চিতল মাছ ও ১টি আইড় মাছ ধরা পড়ে। ডিমওয়ালা চিতল মাছদুটি ওজনে প্রায় ৮ কেজি। ওই মাছদুটি কেজিপ্রতি ১ হাজার ৩শ’ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অপর ১টি ডিমওয়ালা দেশীয় প্রজাতির বৃহৎ আইড় মাছও আকাশচুম্মি মূল্যে বিক্রি হতে দেখা যায়। অথচ প্রজনন মৌসুমে ওই ৩টি মা মাছ নদীতে ডিম ছাড়লে নিঃসন্দেহে হাজার হাজার পোনা মাছের জন্ম হতো। এমন ঘটনা শুধু বড়াল নদীতেই নয় উত্তরাঞ্চলের নদীগুলো থেকে নির্বিচারে বৃহৎ আকারের ডিমওয়ালা মা মাছ নিধন অব্যাহত রয়েছে।তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বরাল,যমুনা,পদ্মা,করতোয়া,হুরাসাগর,নন্দকুজা,বেশানী,আত্রাই,গুমানী,গুর,ফকিরনী,শিববারনই,নাগর,ছোট যমুনা,মুসাখান,নারদ ও গদাইসহ উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর পানির স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে ২৫/৩০ ফুট নীচে নেমে গেছে। সরাসরি এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে অসংখ্য শাখা নদী ও নালা গুলোতে। ফলে মাছের বাসযোগ্য পরিবেশ বিপদসঙ্কুল হয়ে পড়ায় মাছের প্রজনন ও জীবনও বিপন্ন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে স্বল্প পরিধিতে যে পরিমানে পানি অবশিষ্ট রয়েছে সেসব স্থান থেকে ডিমওয়ালা বড় মা মাছ ধরে হাটবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ
তথ্য-প্রযুক্তি
শাহজাদপুর উপজেলায় কর্মকর্তাদের মাঝে ট্যাব বিতরণ
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট ১৭০ জনের মৃত্যু হলো। এছাড়া নতুন করে ৫৭১... আজ বিশ্ব ভালবাসা দিবস। ভালবাসার জয় হোক, ভালবাসা দিবসের জয় হোক। ভালবাসার মহিমায় উদ্ভাসিত... রাষ্ট্রদূত বলেন, চলতি বছর চীন ২৩টি দ্বিপক্ষীয় সেমিনার এবং ৩০টি বহুপক্ষীয় প্রশিক্ষণ ও সেমিনারের আয়োজন করবে। যেখানে ৫০০-এ... সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুরে হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়নের ডায়া আদর্শ ম্যাধমিক বালিকা বিদ্যালয় মাঠ প্রঙ্গনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ ম...
বাংলাদেশ
দেশে একদিনে ২ মৃত্যু, শনাক্ত ৫৭১
আন্তর্জাতিক
“বিশ্ব ভালবাসা দিবসের জয় হোক”
উপ-সম্পাদকীয়
পানি আর ইলিশ ভাসল বাঙালির বেগুন নেই
পরিবেশ ও জলবায়ু
তিস্তা প্রকল্পে অংশগ্রহণে প্রস্তুত বেইজিং: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন
শাহজাদপুর
শাহজাদপুরে ডায়া’য় শোকাবহ আগষ্ট উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
