শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি : পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় শাহজাদপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ইরি-বোরো চাষে চলছে পানির চরম সংকট। কৃষক চাষাবাদের জন্য জমিতে পানি দিতে চরম হিমশিত খাচ্ছে। এক দিকে চৈত্র মাসের রোদের তাপের প্রখরতায় তারাতারি জমির পানি শুকিয়ে যায়, তারপরে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় মেশিন দিয়ে পানিও উঠছে কম। এরই মধ্যে আবার প্রায় সহস্রাধিক নলকূপে পানিই উঠছে না। ফলে গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপদাহের মধ্যে সাধারণ জনগণকে পানীর জন্য দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা এই পানীর সংকট দূর করার কোন উপায় খুঁজে পাচ্ছেননা। কেউ কেউ ৪ থেকে ৫ ফিট খাল করে মাটির নীচে মেশিন বসিয়ে কৃত্রিম উপায়ে পানি তোলার চেষ্ঠা করছে কৃষক। এই দূর্ভোগের মধ্যে আবার বিদ্যুৎ এর লোড শেডিং তো লেগেই আছে। জানা যায়, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামেই একাধিক নলকূপে পানি উঠছে না। বর্তমানে ১০/১৫ থেকে ফুট পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পানি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিভিন্ন এলাকায় পানিয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রান্না-বান্না, গোসল, গৃহস্থালির নানাকাজে পরিবারের সদস্যরা নলকূপে কাঙ্খিত পানি পাচ্ছেনা। কোন নলকূপে দীর্ঘক্ষণ চেপে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম পানি পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বিকল্প হিসাবে অনেক জায়গায় কমপ্রেসার কিম্বা বিদ্যুৎ চালিত সাব-মার্সেবল মেশিন দিয়ে পানি উত্তোলন করছে যদিও বিদ্যুৎ চালিত মটর দিয়েও আশানুরূপ পানি পাওয়া যাচ্ছে না। প্রত্যন্ত এলাকায় এব্যবস্থা না থাকায় নলকূপগুলো অকেজো অবস্থায় রয়েছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী নন্দলালপুর গ্রামের আরিফুল ইসলাম (আরিফ) জানান, এলাকার নলকূপ গুলোতে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পানি উঠছে না এমনকি মটর দিয়েও পানি আগের চেয়ে অনেক কম উঠে। এছাড়াও শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র কারখানা, দুগ্ধ শিতলীকরণকেন্দ্র, গো-খামার, সূতা প্রসেসিং কারখানা গড়ে প্রতিদিন যে পানির প্রয়োজন হয় গভীর নলকূপ বসিয়ে তারা প্রয়োজনীয় পানি পাচ্ছে না। ফলে স্থানীয় তাঁত শিল্পে ও দুগ্ধ শিল্পে এর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর ডায়া, নগরডালা, হামলাকোলা, পোরজনা ইউনিয়নের পুঠিয়া, কাকুড়িয়া, গুলবাগ, পোরজনা, নন্দলালপুর, বেলতৈল ইউনিয়নের কাদাই, ঘোরশাল, বেতকান্দী, সাতবাড়িয়া, খুকনী ইউনিয়নের কামালপুর, কালিপুর, সোনাতলা, যমুনা অঞ্চলের জালালপুর ইউনিয়নের রূপসী, পোতাজিয়া ইউনিয়নের রেশমবাড়ী, মাদলা, নুকালী, বড় বায়ড়া, ছোট বায়রা, মনমরা, কায়েমপুর ইউনিয়নের বৃ-আঙ্গারু, বনগ্রাম, কায়েমপুর, খারুয়া জংলা, বাইমারা গ্রামে নলকূপে পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যেই এসব এলাকার অনেক নলকূপ বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূগর্ভস্থ্য পানির স্তরের দূরত্ব ২৭ ফুটের বেশি হলে হস্তচালিত নলকূপ দিয়ে পানি তোলা সম্ভব হবেনা। এজন্য সামর্থবানরা হস্তচালিত নলকূপের সাথে ভার্টিক্যাল বা সাব মার্সিবল (মটর পাম্প) সংযোগ করে চালু রাখলেও সাধারণ মানুষের অবস্থা খুবই নাজুক। তাই এ ব্যাপারে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

সম্পর্কিত সংবাদ

শাহজাদপুরে সাংবাদিকদের সাথে এবি পার্টির মতবিনিময়

রাজনীতি

শাহজাদপুরে সাংবাদিকদের সাথে এবি পার্টির মতবিনিময়

সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুরে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি)’র দলের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কর্ম পরিকল্পনা জনগণের মাঝে তুলে ধরার লক্ষ্যে শা...

শাহজাদপুরে তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণ, মেম্বার আটক

শাহজাদপুর

শাহজাদপুরে তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণ, মেম্বার আটক

সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুরে ৩৪ বছর বয়সী তিন সন্তানের জননীকে জোর পূর্বক সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার রাতে উপজেলার গাল...

২০ বাসদ নেতাকর্মীর মুক্তির দাবিতে শাহজাদপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

রাজনীতি

২০ বাসদ নেতাকর্মীর মুক্তির দাবিতে শাহজাদপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি : বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে বরিশালে আড়াই হাজার অটো রিক্সা বন্ধের প্রতিবাদ করায় বাসদ নেতা ডাঃ...

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য বিশ্বজিৎ ঘোষ

পড়াশোনা

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য বিশ্বজিৎ ঘোষ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক : ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে’ এর প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের...

৩ দিনে যমুনার কড়াল গ্রাসে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি : জনমনে আতংক

সিরাজগঞ্জ জেলার সংবাদ

৩ দিনে যমুনার কড়াল গ্রাসে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি : জনমনে আতংক

অনলাইন ডেস্ক : সিরাজগঞ্জে রাক্ষুসী যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। বর্না মৌসুম শুরু না হতেই গত ৩দিন যাবৎ সিরাজগঞ্জ...