শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২

গত ২৬ ডিসেম্বর/২০১৫ ইং, রোজ শনীবার ছিল এম’সি’এ এ্যাডভোকেট আব্দুর রহমানের দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী। কৃতি এই মানুষটির দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকতে ‘শাহজাদপুরসংবাদ ডটকমের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলী। তাঁর পরিবারের সদস্য এবং নিকটজন সহ শুভাকাঙ্খিদের কাছে আমাদের দাবী। তার স্মৃতি প্রজন্ম পর প্রজন্ম ধরে রাখা এবং তাঁর রাজনৈতিক দর্শন লালনের জন্য “এম’ সি’ এ আব্দুর রহমান স্মৃতি রক্ষা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তাবায়ন ফাউন্ডেশন” নামক একটি সংগঠন গড়ে তোলা হোক।

‘না ফেরার দেশে আব্দুর রহমান’

আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া প্রার্থনা করছি। তিনি ১৯৩৮ ইং সালের ১৩ অক্টোবর বৃহত্তর পাবনা বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলার হজরত মখদুম শাহদৌল্লা (রহঃ) এবং কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি বিজড়ীত শাহজাদপুরে জন্ম গ্রহন এবং ২০১৩ ইং সালের ২৬ ডিসেম্বর রোজ বৃহসপতিবার সকাল ৬ টা ৩৭ মিনিটে মৃত্যু বরণ করেন। তিনি ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কেন্দ্রীয় গবেষণা পরিষদ’ এর প্রধান উপদেষ্টা এবং মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। কবিগুরুর কুঠিবাড়ী (কাছারি বাড়ী) এর দক্ষিন সীমা ছুয়ে যাওয়া “ছোট নদী’র লাগোয়া দক্ষিনে দিয়ার দশরথ প্রকাশ্য নাম কান্দাপাড়ায় বৃটিশ আমলে বিত্তবান সৎ ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান আকব্দুর রহমান। পিতা ঃ- মৃত ওয়াহেদ আলী শেখ, মাতা :- মৃত ময়ফুন নেছা । আব্দুর রহমান ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে শাহজাদপুর হাইস্কুল থেকে মেট্রিক পাশ করেন। উত্তর বঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাকেন্দ্র্র পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে পাঠরত অবস্থায় অসুস্থ হলে তাঁর শিক্ষায় ছেদ পরে। নানা মানষিক অহমিকা অতিক্রম করে সিরাজগঞ্জ কলেজে ভর্ত্তী হয়ে আয়ুবী সামরিক শাসনের সময় বৈষম্যের বিরুদ্ধে পোষ্টার লাগানোর অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ায় লেখাপড়া আবার বন্ধ হয়ে যায়। ঐ সময়ে তিনি থানা আওয়ামীলীগের নেতা ছিলেন। আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, তাঁত শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ততার মধ্যে পূনঃ সিরাজগঞ্জ কলেজে ভর্ত্তী হন। সে সময়ে তিনি সিরাজগঞ্জ কলেজ ছাত্র সংসদের নেতৃস্থানীয় পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে নানা সরকারী মামলা ও তৎকালীন এস,ডি,ও (মহুকূমা প্রশাসক) বর্তমান বিএনপি নেতা জনাব ইনাম আহম্মদ চৌধুরী কতৃক কলেজ থেকে বহিস্কারের চক্রান্ত অতিক্রম ও কলেজ শিক্ষা শেষ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স পড়তে চলে যান। অর্থনীতির মত উচ্চমানের বিষয়ে লেখাপড়া করার মধ্যেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কে›ন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের নির্বাচিত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬-৬৭ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কারাবন্দী শেখ মুজিব ও ৬ দফার পক্ষে প্রচারের জন্য পশ্চিম পাকিস্থানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সফর করেন। বিগত আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের মন্ত্রী মুন্নজান সুফিয়ানের প্রয়াত স্বামী এস,এম হলের সহ-সভাপতি জনাব আবু সুফিয়ান তাঁর সফর সঙ্গী ছিলেন। ১৯৬৯’র ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি ছিলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের দায়িত্ব তিনি সফলতার সাথে পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত মুক্তিসংগ্রাম তথা ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের উনসত্তরের ১৮ ফেব্রুয়ারী (১৯৬৯) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রসায়ন বিভাগের রিডার ড. সামসুজ্জোহা পাকি সামরীক বাহিনী বেয়নেট চার্জে নির্মমভাবে নিহত হন। ঐদিন আব্দুস ছাত্তার ও নূরুল ইসলাম নামক আরো দুইজন ছাত্র নিহত হয়। ছাত্র/ছাত্রীদের জীবন রক্ষার জন্য পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যকোন শিক্ষক জীবনদান করেন নাই। তিনি সবসময় বলতেন, সরকার যথাযথ উদ্যোগ নিলে ড. জোহার শহীদ দিবস (১৮ ফেব্রুয়ারী) ‘আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস’ ঘোষিত হতে পারে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছারাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় শ্রদ্ধা নমিত পালন করে থাকেন। সিরাজগঞ্জ কলেজ ছাত্র সংসদ, পাবনা জেলা ও সিরাজগঞ্জ মহুকূমা ছাত্রলীগ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগে তিনি যে প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন,তা উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি ও সফলতার সহায়ক হয়েছে। সব কিছুতেই তার অবদান অনস্বীকার্য। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জনাব হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর স্নেহ-ভালবাসা তাঁকে পুনঃ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ভর্ত্তী হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেছিল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পূর্বে স্বাধীনতার লক্ষ্যে পৌঁছানোর পরিকল্পনা বিষয়ে যে গুটিকয়েক মানুষের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন- তার মধ্যে আব্দুর রহমান অন্যতম। গভীর রাতের এ আলোচনায় তাঁর অন্যতম স্নেহস্পদ জনাব আব্দুর রাজ্জাক প্রতিদিন এবং জনাব তোফায়েল আহম্মদ অনেকদিন উপস্থিত থাকতেন। আব্দুর রহমানের অনেক প্রশ্নের জবাব বঙ্গবন্ধু সন্তষ্ট চিত্তে প্রদান করতেন। ২৬ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষণার টেলিগ্রাম তিনি আব্দুর রহমানকে পাঠিয়েছিলেন। রাত্রি ০০০১ মিনিটে প্রেরীত ঐ টেলিগ্রামে লেখা ছিল, “এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের মানুষকে আহবান জানাই, আপনারা যে খানেই থাকুন, যে কোন মূল্যে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যান। বাংলাদেশের মাটি থেকে সর্বশেষ পাকিস্থানী সৈন্যকে উৎখাত করা এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের জন্য আপনাদের যুদ্ধ অব্যাহত রাখুন। আল্লাহ আপনাদের সহায় হন । জয়-বাংলা। শেখ মুজিবুর রহমান”। বঙ্গবন্ধু তাঁকে ১৯৭০’র নির্বাচনে মনোনয়ন দিলে তিনি সিরাজগঞ্জ -৭ আসন থেকে নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধু তাঁকে মন্ত্রী সভার জন্য নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। আব্দুর রহমান অর্থনীতিতে অনার্স সহ এম এ পাশ করেন। জাতির জন্য তা সমৃদ্ধ করার জন্য বঙ্গবন্ধু তাঁকে উচ্চতর ডিগ্রি লাভের জন্য বুলগেরীয়ার রাজধানী সোফিয়ায় প্রেরণ করেছিলেন। তিনি শতকরা ৯৮ ভাগ নম্বর পেয়ে সমাজতান্ত্রিক কৃষি অর্থনীতি তিনি ডিগ্রি প্রাপ্ত হন। পরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু তাঁকে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মহা-পরিচালক নিযুক্ত করেছিলেন। মুক্তি সংগ্রামের মত মুক্তিযুদ্ধের তাঁর অবদান স্মরণ যাগ্য। যুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকার তাঁকে আয়েশী ধরনের কাজের প্রস্তাব দিলে তিনি যুদ্ধের কাজ চেয়ে নেন। সরকারী নির্দেশে জনাব এ,কে খোন্দকার তাঁকে সঙ্গে নিয়ে জলঙ্গী অপারেশন ক্যাম্পের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রেখে আসেন। একই সঙ্গে তাঁকে সেক্টর-৭, সাব সেক্টর-৪, বি-কয় এর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নিয়োগ করেন। তিনি বে-সামরীক প্রশাসন পাবনা-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক পরিষদের প্রচার সাব কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। জাতির জনক নিহত হওয়ার পর আওয়ামীলীগ ছাত্রলীগ ও তাঁতশ্রমিক লীগের ৪০ জন নেতাকর্মী সহ তিনি দীর্ঘকাল কারাভোগ পর ১৯৭৯’র ফেব্রুয়ারী মাসে তিনি মুক্তিলাভ করেন। সে সময়ে সরকারী প্রস্তাব গ্রহন করে দল বদল করলে তিনি অনেক আগেই উচ্চপদসহ মুক্তি পেতেন। সেই সময়ের এন এস আই এর নথিপত্রে এর সত্যতা মিলবে। তিনি স্ত্রী, ২ পুত্র, ৩ কন্যাসহ প্রধানতঃ পূর্বপুরুষের সম্পদের উপরই তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জীবন যাপন করে গেছেন।। জীবিত থাকা অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কিম্বা অন্যকোন ধরনের সম্মানী ভাতা, বা সাহায্য সহায়তা গ্রহন করেননি। এ ভাতা গ্রহনকে তিনি এবং তাঁর পুত্র কন্যারা অমর্য্যাদাকর মনে করতেন। তিনি বলতেন, নিজস্ব অর্থ সম্পদ ব্যায় করে মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে জীবনের প্রায় সব মূহুর্ত ব্যয় করেছি। কোন দয়া, দান বা সহায়তার নীচতা তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। তিনি বলতেন,আমার দেশ প্রেম বিক্রয়যোগ্য নয়। তিনি মনে করেন, প্রকৃত মুক্তিসংগ্রামী ও মুক্তিযোদ্ধা যেহেতু দেশের জন্য জীবনদান স্বীকার করেই জীবন শুরু করেছেন সেই জন্য তাঁদের পক্ষে অঢেল অর্থ সম্পদ অর্জন, এমনকি তা সৎ পথে হলেও শহীদ,মৃত লাঞ্ছিত মা-বোন, নির্যাতিত রাজনৈতিক কর্মী ও মানবতার প্রতি অ-মানবিক ও চরম নিষ্ঠুরতা। তথ্য উপস্থাপনে :- বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার।

সম্পর্কিত সংবাদ

শাহজাদপুরে কৃষি জমি থেকে কৃষকের লাশ উদ্ধার

শাহজাদপুর

শাহজাদপুরে কৃষি জমি থেকে কৃষকের লাশ উদ্ধার

সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুরের জালালপুর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে কৃষি জমি থেকে মঙ্গলবার(২২ নভেম্বর) সকালে এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার ক...

শাহজাদপুরে আ’লীগের কার্যালয়ে বোমা হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর

শাহজাদপুর

শাহজাদপুরে আ’লীগের কার্যালয়ে বোমা হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর

সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুরে আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে বোমা হামলা ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসময় হামলাকারীরা বঙ্গব...

শাহজাদপুরে কৃষকদের মধ্যে চাষের যন্ত্রপাতি বিতরণ করলেন এমপি স্বপন

কৃষি

শাহজাদপুরে কৃষকদের মধ্যে চাষের যন্ত্রপাতি বিতরণ করলেন এমপি স্বপন

শাহজাদপুর প্রতিনিধি : খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প ( ২য় পর্যায়) এর আওতায় ৫০ % উন্নয়ন সহায়তায়...

পায়ে চোট পেয়েছেন তামিম